নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ১ বার
নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে। ১০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো পরিবারের মা অথবা নারীপ্রধানকে কার্ড ইস্যু করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একপর্যায়ে দেশের সব পরিবার এই কার্ড পাবে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রাথমিক লক্ষ্য হলো প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সরাসরি আর্থিক ও পণ্য সহায়তা প্রদান করা। নির্বাচনী ইশতেহারে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রতিমাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। এছাড়া এই পরিমাণ ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, কার্ড প্রাপ্ত সুবিধাভোগীরা সরাসরি নগদ অর্থ বা পণ্যের মাধ্যমে সহায়তা পাবেন।

পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় ১৪টি এলাকা বেছে নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর কড়াইল বস্তি ও ভাষানটেক বাগানবাড়ি বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ এই পাইলটিং প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে। এসব অঞ্চলে ইতোমধ্যেই মাঠপর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে এবং ১০ মার্চ উদ্বোধন ও কার্যক্রম শুরু হবে।

সুনামগঞ্জ জেলার সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুচিত্রা রায় জানিয়েছেন, দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চার সদস্যের কমিটি ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করেছে। জরিপ এবং ডেটা এন্ট্রি প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায়ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের মুদ্রণ কাজ ৯ মার্চের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে এবং উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী কড়াইল বস্তিতে সুবিধাভোগীদের কাছে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে পাঁচ স্তরের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে উপজেলা ও পৌর কমিটি, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি এবং সর্বোপরি মন্ত্রিসভা কমিটি রয়েছে। অর্থমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, আর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সদস্যসচিব হবেন। এছাড়া জাতীয় কারিগরি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবে।

কার্ড মূলত একীভূত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে পরিচালিত হবে। পরিবারের মা বা নারীপ্রধান কার্ডের মালিক হবেন এবং তার বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে। কার্ডে পরিবারের সকল সদস্যের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ডে রূপান্তর করা।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা প্রদানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিবারকে শ্রেণিভুক্ত করা হবে। ভূমিহীন ও গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যসংবলিত পরিবার, নারীপ্রধান পরিবার এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠী (হিজড়া, বেদে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) সহায়তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে চার মাসের প্রকল্পে ৪০ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, চলমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে দ্বৈততা, পুনরাবৃত্তি ও দুর্নীতির সমস্যা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে এই সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব এবং সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছানো যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের জন্য বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে, যা প্রশাসনিক ব্যয়সহ বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে দেশের প্রায় ১০০টি সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তা কর্মসূচিকে একক কার্ডের অধীনে আনা হবে। এতে নগদ ভাতা ও টিসিবি সহায়তা একসঙ্গে মিলিত হবে। প্রধান লক্ষ্য হলো নারী ও পরিবারের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা, যাতে সহায়তা ও সঞ্চয় সরাসরি নারীর হাতে যায়। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এই উদ্যোগ দেশের সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে শক্তিশালী করবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।

ফ্যামিলি কার্ড দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। এটি নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১০ মার্চ থেকে কার্যক্রমের শুরু দেশজুড়ে দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত