প্রকাশ: ৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিএনপি এখন সংসদের খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা চাই সংসদ যেন জনগণের আশা ও বিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়। অতীতের নেতিবাচক চিত্র মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।” শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যান কার্যালয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শেষ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কর্মশালায় সংসদের কার্যক্রম, বিধি-বিধান ও সংসদীয় আচার-আচরণ নিয়ে নতুন সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “কনস্টিটিউশন, রুলস অব প্রসিডিউর, কাস্টমস এবং হাউসের প্রচলিত রেওয়াজসহ বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সংসদীয় চর্চা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি ভবিষ্যৎ সংসদ অধিবেশন দেখে জনগণ আশ্বস্ত হবে এবং বলবে—এমন সংসদই তারা দেখতে চেয়েছিলেন।”
নতুন সংসদ সদস্যদের প্রস্তুতির বিষয়েও তিনি উল্লেখ করেন, “যারা প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন, তারা নতুন করে যাত্রা শুরু করবেন। তাদের মধ্যে কোনো খারাপ সংস্কৃতি না থাকলে ভালো শিক্ষণ গ্রহণ করা সম্ভব। যেমন একটি শিশু জন্মের পর সতেজ সংস্কৃতি শিখে, তেমনভাবে নবীন সংসদ সদস্যদেরও প্রস্তুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো নতুন সংসদ সদস্যদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম করা। এজন্য অভিজ্ঞ সাবেক আমলা, একাডেমিশিয়ান ও সাবেক সংসদ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব, মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংসদীয় রেওয়াজ এবং মন্ত্রণালয় পরিচালনায় কৌশলগত দক্ষতা অর্জনের বিষয়ে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
দুই দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনের কার্যক্রমে সকালের সেশনে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ এবং ফরিদপুর জেলার সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। বিকেলের সেশনে অংশ নেবেন সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংসদ সদস্যরা। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের দায়িত্ববোধ এবং কার্যকরী দক্ষতা বৃদ্ধি করা। এছাড়া তারা সংসদে শৃঙ্খলা, নীতি এবং নিয়মের মধ্যে কাজ করতে পারবে এমনভাবে গঠনমূলক সংস্কৃতি তৈরি করা। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “নতুন সংসদ সদস্যরা সঠিকভাবে প্রস্তুত হলে ভবিষ্যতে সংসদে ইতিবাচক সংস্কৃতি ও জনসেবামূলক মনোভাব প্রতিষ্ঠিত হবে। এটি শুধু দলের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্যও লাভজনক।”
তিনি আরও যোগ করেন, অতীতের সংসদীয় নেতিবাচক প্রভাব ও সংস্কৃতির কারণে মানুষের মনে যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছিল, তা আমরা ধীরে ধীরে দূর করার চেষ্টা করছি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নবনির্বাচিত এমপিরা সংসদীয় কর্মকাণ্ডে যথাযথ ভূমিকা নিতে পারবেন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে সক্ষম হবেন।
সংসদে নতুনদের জন্য এমন প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপি একটি সুসংগঠিত, দক্ষ ও নৈতিকভাবে সুশৃঙ্খল সংসদ গঠনের দিকে ধাপ নিয়েছে। এটি নবীন সংসদ সদস্যদের দায়িত্ববোধ এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার মানসিকতা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, “নবীন এমপিদের প্রস্তুতি সঠিক হলে তারা সংসদে ইতিবাচক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।”
বিএনপির এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, নতুন প্রজন্মের সংসদ সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সততা বৃদ্ধি পেলে সংসদের কার্যকারিতা এবং জনসেবা আরও উন্নত হবে। প্রশিক্ষণ কর্মশালা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে যেখানে এমপিরা অভিজ্ঞদের থেকে জ্ঞান, কৌশল এবং শৃঙ্খলা বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছেন।
উপসংহারে বলা যায়, বিএনপি সংসদে ইতিবাচক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী। নবীন সংসদ সদস্যদের প্রস্তুতি এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দলটি জনগণের আশা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছে। এই কর্মশালা বাংলাদেশের সংসদীয় প্রক্রিয়ায় নতুন দিক নির্দেশনা এবং নৈতিক ও কার্যকরী সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।