নরসিংদীতে চার সন্তানের মা ধর্ষণের শিকার, একজন গ্রেপ্তার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
নরসিংদীতে চার সন্তানের মা ধর্ষণের শিকার, একজন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নরসিংদীর মাধবদী উপজেলায় চার সন্তানের মা (৪০) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই নারী মাধবদীর একটি গ্রামে ধর্ষণের শিকার হন। পুলিশ ইতোমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে। তার স্বামী বর্তমানে প্রবাসে আছেন। চার সন্তানের মধ্যে তিন মেয়েকে তিনি ইতিমধ্যেই বিয়ে দিয়েছেন। বাকি একটি মেয়েকে নিয়ে তিনি মাধবদীর একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের মামলার পর পুলিশ হৃদয় (৩০) নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। হৃদয় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈদের কাপড় কিনতে ওই নারী মেয়েকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার যান। কেনাকাটা শেষে তিনি মেয়েকে বাড়ি পাঠান। এরপর তিনি মুঠোফোনে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে মাধবদীর একটি গ্রামে দেখা করতে যান। ওই ব্যক্তি ‘বউ বিদেশে আছে’ বলে জানান এবং বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই ব্যক্তি নারীকে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে টেনে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যান। পরে তিনিসহ আরও তিনজন ধর্ষণ করেন। এসময় ধর্ষকেরা ভুক্তভোগী নারীর মুঠোফোন ও সাথে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেন।

ভুক্তভোগী নারী জানিয়েছেন, তিনি কয়েক দিন ধরে আড়াইহাজারের ওই ব্যক্তির সঙ্গে মুঠোফোনে কথাবার্তা রাখছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে কেনাকাটার জন্য গিয়ে তিনি মেয়েকে বাড়ি পাঠান এবং অটোরিকশায় ওই ব্যক্তির ঠিকানায় যান। এরপর ওই ব্যক্তি এবং তিন সহযোগী তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার শিকার হওয়ার পর নারী নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

মাধবদী থানার পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে। নারী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী নারীর মানসিক ও শারীরিক পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় সমাজসেবা সংস্থা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, মাধবদী এলাকায় এই ধরনের ঘটনা সমাজের নিরাপত্তা ও সচেতনতার ঘাটতি ফুটিয়ে তোলে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অপরাধী চক্রের সক্রিয়তা বন্ধ না করা হলে এমন ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। পুলিশ এবং প্রশাসন সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মামলায় উল্লেখিত ঘটনাটি নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অপরাধ দমন এবং নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু পুলিশের কার্যক্রম নয়, সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ ঘটনায় মানবাধিকার ও নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনজিওগুলোও মনোযোগী হয়ে পড়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত