তথ্যপ্রমাণে দীপু মনির ‘ব্যাংক লেনদেনের’ দাবিতে নজরকারি আবেদন

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৫ বার
তথ্যপ্রমাণে দীপু মনির ‘ব্যাংক লেনদেনের’ দাবিতে নজরকারি আবেদন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দীর্ঘ প্রায় এগারো মাসের উপরে কারাগারে থাকার পর সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি আদালতে দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে যে সম্পদ ও ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তার যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত ‘পরিষ্কারভাবে’ উপস্থাপন করার সুযোগ তিনি চান। ঢাকার মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়ার সামনে তিনি বিস্তারিতভাবে বলেন, তার যেসব ব্যাংক হিসাব বলে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, সেগুলোর সঠিক বিবরণ নেই। তিনি শুধু ছয়টি হিসাবের কথা জানেন, যার মধ্যে দু‌ই-টিতে এখন লেনদেন হয় না; বাকি চারটিতে ট্রানজেকশন আছে।

দুদকের মামলায় বলা হচ্ছে, তার ২৮টি হিসাব থেকে প্রায় ৫৯.৭৯ কোটি টাকা অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে, এবং তিনি অধরা সম্পদরূপে ৫.৯২ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন । তবে দীপু মনি বলেন, তিনি নিয়মিত করদাতা এবং গত পনেরো বছরে আয়-ব্যয়ের সব তথ্য আয়কর বিবরণীতে জমা দিয়েছেন। তিনি আদালতের কাছে বলেন, “এই তথ্য না পেলে আমাদের পক্ষে লড়াই চালানো সম্ভব নয়।” তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, আইনজীবীর সঙ্গে দেখা ও তথ্য আনার সুযোগ না পেয়ে নিজের আত্মরক্ষা করতে পারছেন না।

দুদকের পিপি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর তর্ক করেন, অভিযুক্ত হলে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার নথি দেওয়া হয় এবং ব্যাংক হিসাবের সুনির্দিষ্ট লেনদেন নথিতেই অন্তর্ভুক্ত। তথ্য সব আদালতের কাছে আনা হয়েছে, পক্ষান্তরে তিনি বলেন, “তদন্ত পরিদর্শনীয় পর্যায়ে হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক।” আদালত শুনানি শেষে তার গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে নেয়ার নির্দেশ দেন

এই শুনানির এক পর্যায়ে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছিল, তার ২৮টি ব্যাংক হিসাব থেকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৫৯.৭৯ কোটি টাকার লেনদেন করা হয়েছে, যা ৭০টি মামলার অংশ । এছাড়া, এ মামলায় তার স্বামী বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে জানানো হয়।

গত ৯ ও ১০ এপ্রিল একাধিক ব্যাংক হিসাব—১৮ থেকে ২২টি—জমাট বাধানো হয়। আদালত ৬.১৭ কোটি টাকা আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছে, যার ৬.১১ কোটি টাকা তার নিজ নামে dhakatribune.com+1thedailystar.net+1

এ পর্যন্ত শুনানায় আদালত স্পষ্ট করেছেন, অভিযুক্ত হিসেবে দীপু মনি তার আইনগত অধিকার পাবেন। আইনজীবীর সাথে কথা না বলার বিষয়ে আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ফের বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে

এই ঘটনায় দীপু মনি জানিয়েছেন, তিনি তথ্য-উপাত্তই তার শক্তি। সেই তথ্য ছাড়া সঠিক প্রমাণ দাখিল সম্ভব হবে না। বিচারপ্রক্রিয়া এখন সেই তথ্য উপস্থাপনের কশমকশ ও তার বৈধতার নিরীক্ষায় কেন্দ্রীভূত।

পরবর্তী পদক্ষেপ
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আদালত পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপস্থাপনের বিষয়ে নির্দেশনা দিতে পারে। দীপু মনি রিমান্ডে থাকায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পরবর্তী পর্যায় আদালতের অনুমোদিত আইনজীবীর মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহ ও উপস্থাপন সুনিশ্চিত হবে।

এ মামলার ফলাফল দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধ ও বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দিকেও নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট এবং সাধারণ জনতাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত