কানাইঘাটে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
কানাইঘাটে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের নিজচৌরা পশ্চিম গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে বাড়ির ভেতরে থাকা আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবারটির দাবি, এটি স্বাভাবিক অগ্নিকাণ্ড নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা তাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে এবং ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৪৫ মিনিটে কানাইঘাট উপজেলার নিজচৌরা পশ্চিম গ্রামের একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার পরপরই কানাইঘাট ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে সম্পূর্ণভাবে আগুন নেভানোর কাজ শেষ হয়।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুনে বাড়ির ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র, ঘরের কাঠামোর অংশ এবং গৃহস্থালির মালামাল পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির মালিক মো. তজমুল আলী, যিনি কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে বর্তমানে অসুস্থ থাকায় তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছেন না বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

তজমুল আলীর ছেলে আখতার আলম জানান, তার বাবা অসুস্থ হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা রমজান মাসের শুরু থেকেই কানাইঘাট উপজেলা বাজারসংলগ্ন একটি বাসায় উঠে গেছেন, যাতে চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় যাতায়াত সহজ হয়। ফলে গ্রামের বাড়িটি কয়েক দিন ধরে ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আখতার আলম বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় যখন সবাই ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই কেউ বা কারা তাদের ফাঁকা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ির ভেতরে থাকা সব আসবাবপত্র এবং মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনি বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের পরিবারের অনেক ক্ষতি হয়েছে এবং মানসিকভাবেও তারা ভেঙে পড়েছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়স্বজনদের একটি পুরোনো বিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে চাচাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। তার অভিযোগ, সেই বিরোধের জের ধরেই কেউ কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আখতার আলম আরও জানান, আগুন নেভানোর পর শনিবার সকালে তারা পুরোনো বাড়িতে গেলে সেখানে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এতে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে তারা শিগগিরই থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন।

অন্যদিকে স্থানীয় অনেকেই বলছেন, গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত নানা বিরোধ রয়েছে, যা মাঝেমধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। তারা মনে করছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটির পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ বা পারিবারিক দ্বন্দ্বও থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে হলে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ঘটনার বিষয়ে কানাইঘাট ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ আবদুল কাদির জানান, তারা খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বাড়ির মালিক প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত কারণে আগুন লাগার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি হয়তো ততটা নয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতি করার কারণে কেউ আগুন দিয়েছে—এমন অভিযোগের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

ওসি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পরিবারটির মধ্যে নিজেদের কিছু বিরোধ রয়েছে। তবে আগুনের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এই ঘটনার পর নিজচৌরা পশ্চিম গ্রামে এক ধরনের উদ্বেগ ও আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন ঘটনা গ্রামীণ সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

গ্রামের একাধিক বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করলেও মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা পারিবারিক বিরোধ থেকে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। তারা চান, এই ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত বের করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি এখন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের দাবি, বাড়ির ভেতরে থাকা প্রায় সব আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। ফলে নতুন করে ঘরবাড়ি ঠিক করা এবং ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত