হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ড্রোন হামলায় তেল ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ড্রোন হামলায় তেল ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ: ৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকা পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে ইরান এক তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘প্রাইমা’ নামের এই তেল ট্যাংকারকে নৌবাহিনী প্রণালী দিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ থাকার পরও যাত্রা করার কারণে লক্ষ্য করা হয়েছে। হামলার ফলে জাহাজের অংশিক ক্ষতি হয়েছে এবং সাময়িকভাবে প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, তারা পূর্বেই ‘শত্রু দেশগুলোর সাথে মিত্রতা রাখছে’ এমন দেশগুলোর তেল ট্যাংকার এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে না দেওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছিল। কিন্তু প্রাইমা নামের জাহাজের পক্ষ থেকে এসব সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবহন করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক সংঘাতের কারণে এই প্রণালীটি নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছে যে, যে কোনো জাহাজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপর আক্রমণ চালানো হবে। তাসনিম নিউজের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে আইআরজিসি নৌবাহিনী এই সতর্কতা উপেক্ষা করার পর প্রাইমা নামের তেল ট্যাংকারকে ড্রোন আঘাতের লক্ষ্য করেছে।

ইরানের নৃশংস সামরিক আগ্রাসনের পেছনে মূল প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলো ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা চালিয়ে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি শহীদ হয়েছেন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে এবং টানা অষ্টম দিনের মতো আইআরজিসি হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হামলার ঘটনার পরে বলেছিলেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী এই পথ দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে নিয়ে যাবে। এই হুমকি এবং সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী শুধু তেল পরিবহনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও একটি কৌশলগত অবস্থান।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোন হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং জাহাজ চলাচলের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পৃথিবীর মোট তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। হঠাৎ এমন হামলা বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং শিপিং খাতের ব্যাহত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, প্রণালীতে চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর রাখার উদ্দেশ্যে তারা ভবিষ্যতেও যেসব জাহাজ নীতিমালা উপেক্ষা করবে তাদেরকে লক্ষ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, তারা বারবার সতর্কতা দিয়েছে যে, প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের সময় সকল নৌযানকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ই এই পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু তৎক্ষণাৎ সমাধান দেখা দিচ্ছে না। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশের জলসীমা এখন আরও জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মনিটরিং প্রয়োজন।

এদিকে, আন্তর্জাতিক জাহাজ মালিক ও বাণিজ্যিক নৌচালকরা সতর্ক অবস্থানে আছে। তারা ড্রোন হামলা এবং সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক নোটিশ ফলো করছে। আন্তর্জাতিক নৌ পরিবহন সংস্থাগুলোও হরমুজ প্রণালীর নৌপরিবহনের নিরাপত্তা যাচাই করার জন্য নির্দেশনা জারি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত