তেলের কোনো অভাব নেই, ৯ মার্চ আসছে দুই নতুন ভেসেল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
তেলের কোনো অভাব নেই, ৯ মার্চ আসছে দুই নতুন ভেসেল

প্রকাশ: ৭ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেন, “তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং আগামী ৯ তারিখে আরও দুটি জ্বালানি ভেসেল দেশে পৌঁছাবে।”

মন্ত্রী আরও জানান, আগামী রোববার (৮ মার্চ) থেকে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম শুরু হবে এবং জনগণকে সংকটের সুযোগ নেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হবে। তিনি বলেন, “যুদ্ধ কতদিন চলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই কিছু ক্ষেত্রে রেশনিং করা হবে, কিন্তু তেলের সরবরাহে কোনো বড় সংকট হবে না।”

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ওঠানামা করছে। এ কারণে দেশে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের মজুদ যথেষ্ট থাকায় সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না।

রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে শনিবার দেখা যায়, কিছু গ্রাহক নিরাপত্তার কারণে তাদের গাড়িতে তেল ভর্তি করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদের প্রভাবে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত সতর্কতা নিচ্ছেন। কিছু পাম্পে সাময়িকভাবে সরবরাহে ধীরগতি দেখা গেলেও মজুদ পর্যাপ্ত থাকায় তেলের ঘাটতি তৈরি হয়নি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের প্রধান পেট্রোল ডিপো ও রিফাইনারিতে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশে কমপক্ষে ১৫ দিনের চাহিদা পূরণে তেল মজুদ রয়েছে। এছাড়া, সরকারি উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিয়মিত তেল আমদানি চালু রয়েছে।

মন্ত্রী টুকু বলেন, “সরকার জনগণকে প্রতিদিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা চাই যেন বাজারে অতিরিক্ত দৌড়ঝাপ না হয় এবং জনগণকে আতঙ্কে ভুগতে না হয়।” তিনি আরও জানান, বিদেশ থেকে আসা নতুন ভেসেলগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে এবং তা সময়মতো বিতরণ করা হবে।

বৃহত্তর শহরগুলোতে পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলেছে, তেলের কোনো ঘাটতি নেই। তবে বাজারে ভিড় কমাতে তারা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রিত বিতরণ নিশ্চিত করছে। রাজধানীর একটি পাম্পের কর্মকর্তা বলেন, “মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কিনছে। কিন্তু আমরা গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে সরবরাহ দিচ্ছি। তেলের অভাব নেই।”

এদিকে, তেল ও গ্যাসের মজুদ নিয়ে জনগণের উদ্বেগকে সামাল দিতে সরকার জনগণকে সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য প্রদান করছে। মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠাপড়া থাকলেও দেশীয় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা এবং তেল ভেসেলের আগমন দেশের জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। এ বিষয়ে অর্থনীতি বিশ্লেষক তুষার চৌধুরী বলেন, “যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও সরকার দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট। পর্যাপ্ত মজুদ এবং রেশনিং ব্যবস্থা থাকায় জনগণকে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।”

মন্ত্রীর এই বক্তব্য এবং নতুন ভেসেলের আগমন দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাধারণ মানুষও সরকারের নির্দেশনা মেনে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি থেকে বিরত থাকলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

এই বৈঠকের পর সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেকোনো সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকা সরকারের প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে জনগণ নিশ্চিত হতে পারবে যে, তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত