প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের ওপর বড় ধরনের স্থল সামরিক অভিযান চালানো হলেও ইরানে সরকার পতন সম্ভব নয় —এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএস ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল পরিচালিত এই মূল্যায়নে ইঙ্গিত রয়েছে যে, সম্ভাব্য সামরিক হামলাও ইরানের শাসক সরকারের কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে না।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে—এমন ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বাভাসকে যথেষ্ট সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে দ্রুত ক্ষমতাচ্যুত করা কঠিন, এবং বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর দ্রুত ক্ষমতা দখলের সম্ভাবনাও অত্যন্ত সীমিত। এই ধরনের মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা উচ্চমাত্রায় গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ আছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করার এক সপ্তাহের মধ্যেই গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন প্রস্তুত হয়। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত রয়েছে, হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছে, তবে সরকারি সূত্রের সঙ্গে পরিপূর্ণ মিল পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন খবর সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করতে পারে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইরান অভ্যন্তরীণভাবে বিচ্ছিন্ন বা দুর্বল নয়। দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো, সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে গঠিত যে, কোনো বহিঃস্থ হামলা সহজে সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রতিবেদন মার্কিন নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও ধরা যেতে পারে।
মার্কিন গোয়েন্দারা মূল্যায়ন করেছেন যে, ইরানের বিভক্ত বিরোধী শক্তিগুলোও ক্ষমতা দখল করতে পারবে না। এটি বোঝায় যে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী, এবং বিদেশি সামরিক চাপের পরেও জনগণ ও সেনাবাহিনী সরকারকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত। প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনাকে ‘অসম্ভাব্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রশাসন যদি ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, তাতেও দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হবে। এ ধরনের অভিযান ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন ইরানের সামরিক প্রতিরক্ষা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক প্রভাবের দিকে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দেয়, ইরানের সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ফলে উভয় পক্ষের জন্যই রাজনৈতিক, সামরিক ও মানবিক জটিলতা তৈরি হবে। এছাড়াও, প্রতিবেদন রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে মার্কিন নীতি প্রণেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত নীতি নির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা বহন করছে। এটি স্পষ্ট করে যে, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানে সরকার পতন সম্ভব নয়, বরং উত্তেজনা বৃদ্ধি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
মোটকথা, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়ন ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সরকারের স্থিতিশীলতা বহিঃসংঘাতের মধ্যেও দৃঢ় রয়েছে। ভবিষ্যতের যেকোনো রাজনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।