ঈদযাত্রা: আজ শেষ দিনের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৬ বার
ঈদে ট্রেনের শেষ দিনের টিকিট

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রতি বছরই দেশের কোটি মানুষের একটাই লক্ষ্য থাকে—পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে বাড়ি ফেরা। রাজধানী ঢাকা কিংবা বড় শহরগুলোতে কর্মজীবী মানুষের জন্য এই সময়টি হয়ে ওঠে ব্যস্ততার চূড়ান্ত মুহূর্ত। ট্রেন, বাস কিংবা লঞ্চ—যে যেভাবেই পারুক, চেষ্টা থাকে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানোর। আর এই ঈদযাত্রায় নিরাপদ ও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবহন হিসেবে রেলপথের চাহিদা সবসময়ই সবচেয়ে বেশি থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের অগ্রিম টিকিট বিক্রি এবারও ব্যাপক আগ্রহের মধ্য দিয়ে চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার শুরু হয়েছে ঈদযাত্রার অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রির শেষ দিন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ পাওয়া যাচ্ছে আগামী ১৯ মার্চের ট্রেনের টিকিট। যারা ওই দিনটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এদিনের পর আর ঈদ উপলক্ষে আগাম টিকিট বিক্রির কোনো সুযোগ থাকবে না।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, আজ সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের আন্তনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে। যাত্রীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে এসব টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। ঈদযাত্রার চাপ সামাল দিতে এবারও ডিজিটাল পদ্ধতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল রাখতে এবার আগেভাগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর রেল ভবনে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় ঈদ উপলক্ষে টিকিট বিক্রির সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, টিকিট কালোবাজারি রোধ করা এবং যাত্রীদের হয়রানি কমানোর জন্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় গত ৩ মার্চ থেকে। সেই দিন থেকে ধাপে ধাপে ১৩ মার্চ থেকে শুরু করে ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দিনের টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যাত্রীরা অনলাইনে লগইন করে কিংবা নির্ধারিত পদ্ধতিতে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। প্রতিটি দিনেই দেখা গেছে ব্যাপক চাহিদা। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের মধ্যেই নির্দিষ্ট দিনের অধিকাংশ টিকিট শেষ হয়ে গেছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, দেশে ট্রেনের সংখ্যা সীমিত হলেও যাত্রীদের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে ঈদের সময় রাজধানী থেকে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ট্রেনগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে লাখো মানুষ রাজধানী ছাড়েন, আর সেই চাপ সামাল দিতে রেলওয়েকে নিতে হয় বিশেষ প্রস্তুতি।

যদিও আজ ১৯ মার্চের টিকিট বিক্রির মধ্য দিয়ে অগ্রিম বিক্রির এই ধাপ শেষ হচ্ছে, তবে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ওই তিন দিনের টিকিট বিক্রির বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তখন প্রয়োজনীয় ঘোষণা দেওয়া হবে।

অগ্রিম টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে যাত্রীদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়মও নির্ধারণ করা হয়েছে। রেলওয়ে জানিয়েছে, একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবার অগ্রিম টিকিট কিনতে পারবেন এবং সেই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চারটি আসন পর্যন্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো টিকিটের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং অধিকসংখ্যক যাত্রীকে টিকিট পাওয়ার সুযোগ দেওয়া।

এছাড়া কেনা টিকিট ফেরত বা রিফান্ড করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। অর্থাৎ একবার টিকিট কিনে ফেললে তা বাতিল করে অর্থ ফেরত নেওয়া যাবে না। রেলওয়ের মতে, এই ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে টিকিটের অপব্যবহার ও কালোবাজারি অনেকাংশে কমে আসবে।

তবে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে একটি বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। নন-এসি কোচের মোট আসনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ‘স্ট্যান্ডিং টিকিট’ বা দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট সংগ্রহের সুযোগ থাকবে। যাত্রার দিন ট্রেন ছাড়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে এসব টিকিট পাওয়া যাবে। অনেক সময় যাত্রীদের সংখ্যা বেশি হলে এই ধরনের টিকিট অনেকের জন্য বিকল্প ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।

ঈদযাত্রাকে ঘিরে রেলস্টেশনগুলোতেও বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু থাকে, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। আগে ঈদের টিকিট পেতে স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। অনেক সময় রাতভর অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাওয়া যেত না। এখন অনলাইনে ঘরে বসেই টিকিট কেনার সুযোগ থাকায় অনেকের জন্য বিষয়টি সহজ হয়েছে।

তবে অনলাইন টিকিটিংয়ের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে সার্ভার চাপ সামলাতে হিমশিম খায়। ফলে অনেক সময় যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যে টিকিট কিনতে পারেন না। তবু সামগ্রিকভাবে এটি আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ব্যবস্থা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঈদ সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীজুড়ে বাড়তে শুরু করেছে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি। বাজারে কেনাকাটা, বাসা গুছিয়ে নেওয়া, অফিসের কাজ শেষ করা—সবকিছু মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী। এই ব্যস্ততার মাঝেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যাতায়াতের টিকিট নিশ্চিত করা।

রেলপথে ভ্রমণকে অনেকেই নিরাপদ ও আরামদায়ক মনে করেন। বিশেষ করে দীর্ঘ পথের যাত্রায় ট্রেনের জনপ্রিয়তা বেশি। ফলে ঈদের সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়া অনেকের কাছেই যেন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

আজকের দিনটি তাই হাজারো যাত্রীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যারা এখনো টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, তারা শেষ সুযোগ হিসেবে আজকের বিক্রির দিকে তাকিয়ে আছেন। প্রত্যাশা একটাই—টিকিট নিশ্চিত করে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানো।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিনে আবারও দেখা যাচ্ছে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবল আগ্রহ। পরিবার ও আপনজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে দেশের নানা প্রান্তে ছুটে যাওয়ার এই আবেগই যেন বাংলাদেশের মানুষের চিরচেনা এক গল্প।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত