প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।**
দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে সোমবার ভোর সোয়া ৫টা থেকে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে নদীতে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হওয়ায় ফেরি বন্ধের খবর জানা মাত্রই দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী ও মালবাহী যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার, ট্রাক ও মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহন ফেরি চলাচলের জন্য আটকে পড়েছে। এতে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক, ভোগান্তি এবং উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার রাতের শেষভাগ থেকে পদ্মা নদীতে কুয়াশা দেখা দিয়েছিল। ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় নদীতে চ্যানেল ও মার্কিং বাতি ঠিকমতো দেখা যাচ্ছিল না। দৃশ্যমানতার এই হ্রাস ফেরি চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। নদীর ওপরে ফেরি পরিচালনা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, এজন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কর্তৃপক্ষ ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, নদীতে দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। কুয়াশা কেটে গেলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুনরায় নৌযান চলাচল শুরু করা হবে। তিনি আরও জানান, ভোর থেকে যাত্রী ও মালবাহী যানবাহনের চাপ রয়েছে, তবে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা অপরিহার্য ছিল।
দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুট দেশের পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ। এই রুট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এবং বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন হয়। এটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। আজকের ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে আশেপাশের হোটেল ও ঘাট এলাকায় অপেক্ষা করছেন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন কুয়াশার সময় নদীর দৃশ্যমানতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিং বাতি এবং চ্যানেল দেখা না গেলে নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ে, বিশেষ করে যেসব ফেরি বড় জাহাজ বহন করে। তাই সরকারি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে ন্যায্য ও নিরাপত্তা-উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে দেখছেন তারা।
এদিকে, যাত্রীরা বলছেন, সকাল থেকেই তারা ফেরি চলাচলের জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেকেই ভোর থেকেই ঘাটে অবস্থান করছেন, তবে কুয়াশা কমার কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। কিছু চালকও জানিয়েছেন, ফেরি চলাচল না হলে যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন দীর্ঘ সময় ঘাট এলাকায় আটকে থাকবে, যা তাদের দৈনন্দিন কর্মসূচি ব্যাহত করছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন জানিয়েছে, কুয়াশা কাটলে নদীতে দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে। এছাড়া যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুরোধ করেছেন, যাত্রীরা ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করুন এবং নিরাপত্তা বজায় রাখুন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, পদ্মা নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকা এক প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এটি কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা নয়, বরং নৌপরিবহন আইন অনুযায়ী নেওয়া বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ। প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী ও টনাক্রান্ত মালবাহী পণ্য পরিবহনের কারণে নৌপথের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বশেষ, দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ঘাট এলাকায় অপেক্ষা করছেন। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমলে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নৌপরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেরি সার্ভিস স্বাভাবিকভাবে পুনরায় চালু করা হবে।