বাজুসের সমন্বয়: রুপা ও স্বর্ণের বাজারে নতুন দামে ব্যাপক পরিবর্তন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ১৬ বার
রুপা ও স্বর্ণের নতুন দাম বাজুস ২০২৬

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু রুপা ও স্বর্ণের দাম আবারও বড় পরিবর্তনের মুখে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সম্প্রতি এক নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করে রুপার দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ও স্বর্ণের দামে ব্যাপক সমন্বয় ঘোষণা করেছে। এই নতুন মূল্য আজ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং তা ক্রেতা ও মালিকদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

বাজুসের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে রুপার দামে ফের বাড়তি সমন্বয় করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট মানের রুপার এক ভরি দাম মোট ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, যা পূর্বের নির্ধারিত দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ২১ ক্যারেট রুপার ভরি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ২৪ টাকা করে রাখা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে যে স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই রুপা মূল্যের নতুন সমন্বয় করা হয়েছে এবং স্থানীয় পরিস্থিতি পুরোপুরি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এই নতুন মূল্য বুধবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

রুপার দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের আগেও গত ৯ মার্চ বাজুস রুপার দাম পুনঃসমন্বয় করেছিল। তখন ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরি দাম ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, ২১ ক্যারেট রুপা ছিল ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ছিল ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ছিল ৩ হাজার ৯০৭ টাকা। সেই সময়ে বাজুস বাজারের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে দাম সমন্বয় করেছিল।

এই বছরের শুরু থেকে দেশের বাজারে রুপার দাম মোট ২৪ দফা সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে গেছে, যার মধ্যে ১৫ দফা দামে বৃদ্ধি এবং ৯ দফা দামে হ্রাস ঘটেছে। এর আগের বছর ২০২৫ সালে মোট ১৩বার রুপার দাম সমন্বিত হয়েছিল, যার মধ্যে ১০বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং মাত্র ৩বার দাম কমানো হয়েছিল। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে রুপার বাজার বেশ উত্থান-পতন করছে এবং ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

রুপার পাশাপাশি স্বর্ণের বাজারেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বাজুস ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের এক ভরি দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। সেই সাথে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা।

এই সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বর্ণের বাজারে চলতি বছর পর্যন্ত মোট ৩৯ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ দফা দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ১৪ দফা দাম কমানো হয়েছিল। গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৯৩বার পরিবর্তিত হয়েছিল, যেখানে ৬৪বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯বার দাম কমানো হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রূপা ও স্বর্ণের দাম পরিবর্তনের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের মহাসংকট, পিওর সিলভার ও পিওর গোল্ডের দাম ওঠানামা, সেই সাথে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে ধাতুদের মূল্য পরিবর্তন দ্রুত দেশের বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের কোনো বড় হাতিয়ার হিসেবে ধাতুতে বাজেট নিয়ন্ত্রণ, আমদানি-রফতানার সঙ্কট বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা স্থানীয় বাজারে দাম ওঠানামার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়েই এখন বাজার পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে। রুপা ও স্বর্ণ ক্রয় বা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এসব সমন্বয় তাদের পরিকল্পনাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংকটপূর্ণ বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে সামনে ধাতু বাজারে আরও নানা ধরনের ওঠানামা হতে পারে এবং ক্রেতাদের জন্য একসময় সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

রূপা ও স্বর্ণের বাজারে এই নতুন দামের ঘোষণা দেশের ক্রেতা-ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তা সময়ের সাথে পরিষ্কার হবে, তবে বর্তমান অবস্থায় বাজারের গতিপ্রকৃতি ক্রমাগত মনিটর করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত