প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে তার দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন কার্যক্রমে ইউএনডিপির গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইউএনডিপি পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নকে একটি সমন্বিত ও টেকসই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনডিপির মধ্যে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারিত হবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নতুন নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বৈঠকের শুরুতে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় দীপেন দেওয়ান এমপিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। ইউএনডিপি ভবিষ্যতেও এই অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
স্টিফেন লিলার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইউএনডিপির চলমান সহযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী হবে।
বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। উভয় পক্ষই মনে করেন, পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের জীবনমান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই সরকার এমন উদ্যোগ গ্রহণ করতে চায় যাতে স্থানীয় জনগণ সরাসরি উন্নয়নের সুফল পায় এবং নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ইউএনডিপির বিভিন্ন প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করেছে। এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনায় বলা হয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা জানান, তারা এই অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রযুক্তিগত সহায়তা, গবেষণা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।
সৌজন্য সাক্ষাতে ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ মিজ সোনালী দয়ারত্নে, পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার মিজ আন্নে হাগুড, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সরদার মো. আসাদুজ্জামান এবং ইন্টারন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ইয়্যুগেস প্রাধানাং উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মন্ত্রীর একান্ত সচিব রবীন্দ্র চাকমা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
উপস্থিত কর্মকর্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা মনে করেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই বৈঠককে অনেকেই ভবিষ্যৎ সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ইউএনডিপির প্রযুক্তিগত ও উন্নয়ন সহায়তা একত্রে কাজ করলে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।