জকিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত স্থানীয় জনতার উদ্বেগ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৩ বার

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তে আবারও বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণ গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে। স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে চুরা চালান চেষ্টা চলাকালে বিএসএফ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই নিহত হন এক যুবক। তার লাশটি কুশিয়ারা নদিতে ভেসে উঠে ।

নিহত যুবকের নাম মলিক ( ৩৫), তিনি মৌলওবির চক গ্রামের কস্কনকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মলিক সম্প্রতি এবং সীমান্ত এলাকায় ছোটখাটো পণ্য পারাপারের কাজে যুক্ত ছিলেন। তার তিনটি ছেলে মেয়ে স্ত্রী আছে ।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকেই সীমান্ত এলাকায় জনসাধারণের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিএসএফের এমন হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সরকারের কাছে কঠোর প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান, “বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে কিছু জানান হয়নি। বিষয়টি বিজিবির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। গত এক দশকে শতাধিক বাংলাদেশি সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছে, যাদের অধিকাংশই ছিল দরিদ্র ও কর্মসংস্থানের জন্য সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা করছিল। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বারবার কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার আশ্বাস এলেও বাস্তবতা তেমন বদলায়নি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সীমান্তে মৃত্যুর এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। কারণ, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু গুলি করে হত্যা করা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।

জকিগঞ্জের সাধারণ মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলছেন, “এভাবে একজন যুবককে হত্যা করে কিছুতেই সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না। বরং এটা একটা অন্যায়, মানবাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।”

সরকারি মহল থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

নিহত আহাদের পরিবার এখন শোক আর ক্ষোভে বিহ্বল।
এভাবে একের পর এক সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যখন দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসে, তখন জবাব চায় জনতা—আর কত প্রাণ গেলে বন্ধ হবে সীমান্তে এই নিষ্ঠুরতা?

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত