প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বগুড়ার সদর উপজেলায় ঘটে গেল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে ইসলামপুর হরিগাড়ি গ্রামে নিজ বাড়ির ভেতরেই ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান এক বৃদ্ধা ও তাঁর পুত্রবধূ। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন এক তরুণী, যিনি নিহত বৃদ্ধার নাতনি। ঘটনাটি এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, ইসলামপুর হরিগাড়ি এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী লাইলী বেওয়া (৭০) এবং তাঁর ছোট ছেলে পারভেজের স্ত্রী হাবিবা ইয়াসমিন (২২)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন লাইলীর বড় ছেলে বুলবুলের মেয়ে বন্যা (১৮)। তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে সাড়ে আটটার দিকে ওই বাড়িতে শুধু মহিলারাই ছিলেন। সেই সময়েই এক বা একাধিক দুর্বৃত্ত হঠাৎ ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত চালায় তিনজনের ওপর। প্রচণ্ড রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁরা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। কিছু সময় পর প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাইলী বেওয়া ও হাবিবা ইয়াসমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
বন্যা বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তাঁর পেট ও বুকে গভীর ছুরিকাঘাত রয়েছে, এবং অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই বগুড়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান বলেন, “এটি একটি চাঞ্চল্যকর ও বেদনাদায়ক ঘটনা। আমরা এখনো হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট মোটিভ বা পরিচয় নিশ্চিত করতে পারিনি। তবে পুলিশ একাধিক দিক থেকে তদন্ত করছে। সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।”
এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতদের আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে, তবে অপরাধীদের উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয়।
স্থানীয়রা জানান, নিহত পরিবারটি ছিল শান্ত-নিরিবিলি, কারও সঙ্গে তেমন বিরোধের কথাও শোনা যায়নি। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই হামলা হতে পারে।
পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় বগুড়া জেলা পুলিশের বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের জানাজা ও দাফন নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বগুড়ার পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।