কারফিউয়ে স্তব্ধ গোপালগঞ্জ: গ্রেপ্তার ১৪, জনজীবনে আতঙ্ক

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৫ বার
কারফিউয়ে স্তব্ধ গোপালগঞ্জ: গ্রেপ্তার ১৪, জনজীবনে আতঙ্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ঘোষিত পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার জেরে জেলা জুড়ে জারি করা হয়েছে কারফিউ। বুধবারের (১৬ জুলাই) রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও দফায় দফায় হামলার ঘটনার পর রাতেই এ সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় প্রশাসন। একইসঙ্গে যৌথ বাহিনী শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৪ জনকে আটক করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান। তবে এ পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে তিনি জানান।

কারফিউ জারির পর থেকে গোটা গোপালগঞ্জ জেলায় এক ধরনের নিস্তব্ধতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গণপরিবহন তো দূরের কথা, ব্যক্তিগত যানবাহন কিংবা অটোরিকশাও চলতে দেখা যায়নি। শুধুমাত্র কয়েকটি এলাকা দিয়ে খুব সীমিত পরিসরে কিছু রিকশা চলাচল করলেও অধিকাংশ রাস্তা ছিল জনমানবশূন্য। দোকানপাট, শপিংমল, খাবারের হোটেল সবই ছিল বন্ধ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গতকাল রাত থেকেই শহরে যেন এক অদৃশ্য ভয়ের ছায়া নেমে এসেছে। মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, জরুরি প্রয়োজনে যারা বের হচ্ছেন, তাদের চোখেমুখেও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। এমনকি আজ বৃহস্পতিবার সকালেও শহরের কেন্দ্রস্থলসহ আশপাশের বাজার ও বাসিন্দাবহুল এলাকায় মানুষের তেমন উপস্থিতি নেই বললেই চলে। ব্যবসা-বাণিজ্য পুরোপুরি অচলাবস্থায়।

গোপালগঞ্জ শহরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবুল কাশেম জানান, “রাতে চারপাশ থেকে শুধু গুজব আর গুলির শব্দ শুনছিলাম। মনে হচ্ছিল যুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে রাত পার করেছি। আজ সকালে দোকান খুলবো ভেবেছিলাম, কিন্তু চারদিকে নীরবতা দেখে আর সাহস হয়নি।”

কারফিউ চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে। বিশেষ করে রাতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেনা, র‍্যাব কিংবা পুলিশ বাহিনীর টহল চোখে পড়েনি বলে জানান স্থানীয়রা। তবে জেলা কারাগারের সামনে নিরাপত্তাব্যবস্থা কিছুটা জোরদার দেখা গেছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে এ পদযাত্রাকে বানচাল করতে চাইছে। গোপালগঞ্জে তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চলাকালীন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি তাদের। সেই অভিযোগের পটভূমিতেই সহিংসতা শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শান্তিপূর্ণ অবস্থান ভেঙে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছিল বলেই কারফিউ দিতে বাধ্য হতে হয়।

কারফিউ জারির পর যেসব ব্যক্তি আটক হয়েছেন, তাদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের আটক করা হয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে বা কারফিউ কতদিন বলবৎ থাকবে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা চাইছেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হোক এবং আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক গোপালগঞ্জ। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং জনজীবনে যাতে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত