ভারতীয় বিমান চলাচলে সংকট, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার
ভারতীয় বিমান সংস্থার সংকট

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার জেরে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে সামলাতে হচ্ছে নতুন ধরনের সংকট। গত বছর থেকে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা দিয়ে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর উড়ান বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাতায়াতের রুটগুলো অত্যন্ত সীমিত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বিমান সংস্থাগুলোকে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ পথ ও সময়সীমা বাড়িয়ে রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগোর মতো দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো গত ১০ দিনে মোট নির্ধারিত ১ হাজার ২৩০টি ফ্লাইটের মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ চালাতে পারেনি। ফ্লাইট চলাচলে দেরি ও বাতিলের কারণে খরচ এবং অপারেশনাল চাপ বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আন্তর্জাতিক রুটে ভারতীয় বিমান সংস্থার জন্য দ্বিগুণ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ফ্লাইটের সময়সূচি এবং রুটগুলো প্রায়ই পরিবর্তন করতে হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইট ১৩ ঘণ্টা আকাশে থাকার পরেও শেষ পর্যন্ত দিল্লি ফিরে এসেছে, আর অন্য একটি বোয়িং বিমানকে আফ্রিকার ইরিত্রিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ কারণে বিমান সংস্থার খরচ বাড়ছে এবং সময়ে বিলম্ব হচ্ছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৭৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। তবে বাধ্য হয়ে যাত্রাবিরতি এবং দীর্ঘ ফ্লাইট সময়ের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারলাইনগুলোর তুলনায় তারা পিছিয়ে পড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, দিল্লি থেকে নিউ ইয়র্কগামী ফ্লাইটটি রোমে যাত্রাবিরতি দেওয়ায় ২২ ঘণ্টা সময় নিয়েছে, যেখানে ইরান যুদ্ধের আগে একই রুটে ফ্লাইটের সময় মাত্র ১৭ ঘণ্টা ছিল।

টাটা গ্রুপ এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের যৌথ মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বছরে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। এ অবস্থায় তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি খরচও বাড়ছে, যা বিমান সংস্থার অপারেশনাল ব্যয় আরও বৃদ্ধি করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর সামনে বিকল্প রুট সীমিত হওয়ায় ফ্লাইট স্থগিত, দেরি এবং অতিরিক্ত খরচ নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে এবং তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রভাবিত হবে।

এই সংকট মোকাবিলায় সংস্থাগুলো নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ ফ্লাইটের জন্য অতিরিক্ত সময়সূচি এবং যাত্রী সুবিধার মান বজায় রাখা তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় বিমান সংস্থার অবস্থান শক্ত রাখার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা এবং তেলের মূল্য বৃদ্ধির মধ্যে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে এখন সতর্ক ও কৌশলগতভাবে কাজ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাবশালী থাকা এবং যাত্রী সেবায় বিলম্ব কমানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত