প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র জেনারেল আবুলফজল শেকারচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘নির্লজ্জ ও নৃশংস’ কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। ইরানি সংবাদ সংস্থা ডিফাপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেকারচি আঞ্চলিক দেশগুলোকে শত্রু বাহিনীর গোপন আস্তানা ফাঁস করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি কমানো যায় এবং প্রয়োজনীয় লক্ষ্যবস্তুতে কার্যকরী হামলা চালানো সম্ভব হয়।
শেকারচি বলেন, “মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী হতাশা এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর মুখোমুখি হতে অক্ষম হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুদের হত্যা করছে। এ বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত। শিগগিরই তাদের ওপর তীব্র হামলা চালানো হবে।” তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর মুসলিম জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে শত্রু বাহিনীর লুকানো অবস্থানগুলি প্রকাশ করতে, যাতে তারা মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন নাগরিকদের ওপর আঘাত না করে কার্যকরী প্রতিরোধ করা যায়।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তা এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সতর্ক করেছেন। শেকারচি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় তথ্য সরবরাহ সঠিক সময়ে তীব্র প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, “যারা এই অঞ্চলের মানুষকে ব্যবহার করে নিজেদের কৌশলগত উদ্দেশ্য পূরণ করতে চায়, তাদের সঠিকভাবে আঘাত করতে হলে আমাদের স্থানীয় তথ্য অপরিহার্য। আমরা চাই মুসলিম দেশগুলোর জনগণ আমাদের সহায়তা করুক, যাতে কোনো বেসামরিক ক্ষতি না হয়।”
এ ধরনের ঘোষণার মাধ্যমে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে এবং একই সঙ্গে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা এবং প্রতিরোধ নীতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বার্তা দিচ্ছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ব্যাপক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। শেকারচির ভাষণে এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকা, তথ্য সংগ্রহ এবং সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই আহ্বান কেবল সামরিক কৌশল নয়, বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি প্রচেষ্টা। স্থানীয় জনগণকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা এবং গোপন আস্তানা ফাঁস করার অনুরোধ, ইরানের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ। এতে ইরান সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে চায় এবং একদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিহত করতে চায়, অন্যদিকে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে চায়।
শেকারচি এও উল্লেখ করেছেন, “আমাদের প্রতিশোধের লক্ষ্য স্পষ্ট, এটি শুধুমাত্র প্রতিশোধ নয়, বরং আগামি সময়ে আমাদের জনগণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সুরক্ষা।” তিনি বারবার মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন, তাদের সহযোগিতা প্রদান করে বেসামরিক ক্ষতি রোধে সহায়তা করতে। এ ধরনের আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়ছে।
ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সামরিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাত ইরানের এমন প্রতিশোধমূলক ঘোষণা এবং কৌশলগত আহ্বানের পেছনে মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে স্থানীয় তথ্য এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা ইরানের জন্য निर्णায়ক হতে পারে।
শেকারচির বক্তব্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ইরান তার প্রতিরক্ষা ও সামরিক নীতিতে দৃঢ় এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া তার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে, আঞ্চলিক মুসলিম জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, তারা শত্রু বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করে সম্ভাব্য ক্ষতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।