খায়রুল হকের জামিন, কারামুক্তিতে বাধা নেই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ১ বার
খায়রুল হক জামিন হাইকোর্ট

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিধিবহির্ভূতভাবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্লট গ্রহণের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের এ আদেশের ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন। বুধবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন এবং বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার নথি, অভিযোগের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন বলে জানা গেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলাটি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। অভিযোগে বলা হয়, বিধি লঙ্ঘন করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি প্লট গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের আগস্ট মাসে দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার পর থেকেই বিষয়টি দেশের আইন ও রাজনীতির অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, সরকারি নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করে প্রভাব খাটিয়ে প্লট গ্রহণ করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে। পরে এসব তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি আদালতে গড়ায়।

মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডিতে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার গ্রেপ্তার ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় জামিনের আবেদন করা হলে হাইকোর্ট ধাপে ধাপে সেগুলো শুনানি করেন। চলতি মাসের ৪ মার্চ হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ তাকে একাধিক মামলায় জামিন দেন। ওই সময় বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ যুবদলকর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা চারটি মামলায় তাকে জামিন প্রদান করেন।

সেসব মামলায় জামিন পাওয়ার পরও রাজউকের প্লট গ্রহণ সংক্রান্ত মামলাটি তার মুক্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ছিল। বুধবার হাইকোর্ট সেই মামলাতেও জামিন মঞ্জুর করায় তার মুক্তির বিষয়ে আইনি জটিলতা অনেকটাই দূর হয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলে প্রতিটি মামলায় জামিন না পাওয়া পর্যন্ত কারামুক্তি সম্ভব হয় না। সেই প্রেক্ষাপটে সর্বশেষ মামলায় জামিন পাওয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের কারামুক্তির পথে আর কোনো বাধা নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্তভাবে মুক্তি পেতে কারা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

খায়রুল হক বাংলাদেশের বিচার বিভাগের একজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার সময়কালে দেওয়া বেশ কিছু রায় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত রায়টি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই রায় এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও আলোচনা চলে আসছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ের মামলাগুলোও দেশের রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং গ্রেপ্তারের ঘটনাও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অন্যদিকে খায়রুল হকের আইনজীবীরা শুরু থেকেই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সত্য উদঘাটিত হবে এবং আদালতই শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। আদালতের সর্বশেষ জামিন আদেশকে তারা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন।

এদিকে মামলার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

দেশের আইন বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো সব সময়ই জনমনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। কারণ এসব মামলার মাধ্যমে আইন ও বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি সামনে আসে। একই সঙ্গে আদালতের সিদ্ধান্তগুলোও জনমনে নানা ধরনের আলোচনার জন্ম দেয়।

বর্তমানে হাইকোর্টের জামিন আদেশের ফলে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের কারামুক্তির পথ খুলে গেছে। তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের মাধ্যমে প্রতিটি মামলার নিরপেক্ষ বিচার হওয়াই আইনের শাসনের মূল ভিত্তি। সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় বা নির্দোষিতা নির্ধারণ হবে।

সব মিলিয়ে হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশ দেশের বিচার অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন নজর থাকবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং মামলার ভবিষ্যৎ অগ্রগতির দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত