কুড়িগ্রামে অটোরিকশার ধাক্কায় উকিলের সহকারী নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ২৯ বার
কুড়িগ্রাম অটোরিকশা দুর্ঘটনায় মৃত্যু

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুড়িগ্রাম পৌর শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক উকিলের সহকারী বা মহুরির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন আমিনুল ইসলাম (৪৫) নামের ওই ব্যক্তি। বুধবার সকালে শহরের জজ কোর্ট মোড় এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর দুঃখ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

নিহত আমিনুল ইসলাম কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আদালতসংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন এবং একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি শান্ত স্বভাবের ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি সকালে আদালতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে আমিনুল ইসলাম নিজের বাইসাইকেল নিয়ে কুড়িগ্রাম জজ কোর্টের দিকে যাচ্ছিলেন। শহরের জজ কোর্ট মোড়ে পৌঁছানোর সময় হঠাৎ একটি দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় তিনি সাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই আমিনুল ইসলামকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন কোনো সময় নষ্ট না করে তাকে দ্রুত উদ্ধার করেন। এরপর তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আদালতপাড়াসহ স্থানীয় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন বলে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন। এই দুর্ঘটনার খবর দ্রুত তার পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে পৌঁছালে তারা হাসপাতালে ছুটে আসেন।

আমিনুল ইসলামের সহকর্মীরা জানান, তিনি বহু বছর ধরে আদালতের বিভিন্ন কাজে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে বাইসাইকেলে করে আদালতে যেতেন। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আদালতপাড়ার সহকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, কুড়িগ্রাম শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব যানবাহনের অনেক চালক ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্রুতগতিতে চলাচল এবং অসতর্ক ড্রাইভিংয়ের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনাও সেই ধরনের অসতর্কতার ফল হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

জজ কোর্ট মোড় এলাকাটি শহরের একটি ব্যস্ততম স্থান। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ এবং যানবাহনের চলাচল থাকে। আদালতে আসা আইনজীবী, কর্মচারী, মামলার পক্ষভুক্ত মানুষ এবং সাধারণ পথচারীদের ভিড়ে এলাকাটি প্রায় সব সময়ই ব্যস্ত থাকে। ফলে সেখানে যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্ঘটনায় জড়িত অটোরিকশা ও চালকের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং ঘটনার সময় আশপাশে থাকা মানুষের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদিকে নিহত আমিনুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা তার আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, আমিনুল ইসলাম পরিবারকে নিয়ে সাদামাটা জীবনযাপন করতেন এবং নিয়মিত কাজের মাধ্যমে সংসার চালাতেন।

স্থানীয় সমাজকর্মীরা মনে করছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে শহরের যানবাহন চলাচলে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও তারা মত দিয়েছেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর ও জেলা শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে এই যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি এবং অনেক ক্ষেত্রে লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণের অভাব সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তাই সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও কঠোর আইন প্রয়োগ।

কুড়িগ্রামের এই দুর্ঘটনাটি আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিদিনের জীবনে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

একজন পরিশ্রমী মানুষ, পরিবারের অভিভাবক এবং আদালতপাড়ার পরিচিত মুখ আমিনুল ইসলামের মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার সহকর্মী ও পরিচিতজনরা আশা করছেন, দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত