যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য তদন্তে বাংলাদেশসহ কয়েক দেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ বাণিজ্য তদন্ত

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের নামও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বুধবার জানান, সেকশন ৩০১-এর অধীনে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তে যদি কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করতে পারবে।

এটি ঘটে এমন সময় যখন গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল করেছে। উচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন প্রেসিডেন্টকে একপাক্ষিকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না এবং এ ধরনের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে সংরক্ষিত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের মতো অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন থাকা আবশ্যক।

গ্রিয়ার জানান, এই নতুন তদন্তে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোসহ একাধিক দেশের পণ্যের ওপর গ্রীষ্মের মধ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েও এই তদন্তের আওতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কানাডার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গত বছরের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, যা শুল্কের হার কিছুটা কমিয়ে আনা এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নির্ধারণ করে। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এসব চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুল্কের হার পরিবর্তন হলেও চুক্তি কার্যকর থাকবে এবং তার অধীনে নির্ধারিত শর্তাবলী মেনে চলা হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আদালতের রায়ের পর আবারও ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেন এবং হুমকি দেন তা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। ফলে নতুন তদন্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর আরও জোরালো শুল্ক আরোপের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন বাণিজ্য তদন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর চাপ বৃদ্ধি করবে। বাংলাদেশের ব্যবসা ও রপ্তানি খাতের ওপর এটি সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও কৃষি পণ্যের বাজার রয়েছে, যেখানে শুল্ক আরোপ হলে ব্যবসায়িক খরচ ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে, এই সপ্তাহের শেষে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই আলোচনা মার্চের শেষ দিকে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। ব্যবসা ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে এই শুল্ক ও বাণিজ্য নীতি আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলো এই নতুন তদন্ত ও শুল্ক হুমকির মোকাবেলায় কৌশলগত প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমঝোতা না হলে এটি অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

নতুন বাণিজ্য তদন্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি, রপ্তানি ও আমদানি খাতসহ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। তাই বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ, বিকল্প বাজার অনুসন্ধান এবং বাণিজ্য নীতি পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে প্রস্তুতি নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত