জমি বিরোধে পায়ের রগ কাটায় শিক্ষক নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
জমি বিরোধে শিক্ষক নিহত নরসিংদী

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নরসিংদীর শিবপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পায়ের রগ কেটে ফেলা এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত আবু সাঈদ মোগল শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের মোল্লাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা এবং শাষপুর কাজী মফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তিনি বুধবার সন্ধ্যায় টাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে। স্থানীয়দের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আবু সাঈদ মোগলের প্রতিবেশী স্বপন মোগল ও তার ভাই কিরন মোগল শিক্ষকের দুই পায়ের রগ কেটে দেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কোহিনুর মিয়া জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে যায় এবং পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, র‌্যাব-১১, নরসিংদী এবং র‌্যাব-১৫, কক্সবাজারের যৌথ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা এলাকা থেকে মূল দুই আসামি স্বপন মোগল (৪৫) এবং কিরন মোগল (৪২) গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় মামলার পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আবু সাঈদ মোগল ছিলেন সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক এবং মানুষদের সাহায্য করার জন্য পরিচিত ছিলেন। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয় মানুষরা অত্যন্ত শোকাহত। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা বলেছিলেন, তারা আশা করতেন দেশের আইনের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে।

শিবপুরে এবং আশেপাশের গ্রামগুলোতে এই ঘটনা সম্পর্কে শুনে মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ ও দুঃখ দেখা দিয়েছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাটিকে নৃশংস এবং অমানবিক বলে উল্লেখ করেছেন। তারা শিক্ষকের মৃত্যুর জন্য দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি করেছেন।

নিহতের পরিবার এবং স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। তবে এ ধরনের নৃশংসতা ঘটানো সমাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। র‌্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করবে।

শিক্ষক সমাজের মধ্যে এমন নৃশংস ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। শিক্ষক সমিতি ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনাকে প্রতিরোধ করা যায়।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, আবু সাঈদ মোগল ছিলেন গ্রামের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় এবং তার মৃত্যুতে শুধু পরিবারই নয়, পুরো গ্রামের মানুষ শোকাহত। তার মৃত্যুতে শিক্ষাজীবনের প্রতি দুর্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং ছাত্রছাত্রীদের মনোবলও প্রভাবিত হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা সমাজে ন্যায়ের প্রতি মানুষের বিশ্বাস এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের দায়িত্বের গুরুত্ব পুনরায় সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি নাগরিকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়েছে, যাতে কেউই এমন নৃশংস অপরাধের সঙ্গে ছাড় পেতে না পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত