স্বর্ণের দামে আবার পতন, ভরিতে কমলো ২১৫৮ টাকা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার
স্বর্ণের দামে আবার পতন

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দামের পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এবার প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা। শুক্রবার সকালে সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয় এবং নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

স্বর্ণের দাম কমার এই ঘোষণায় স্বর্ণক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে দাম কমায় ক্রেতাদের আগ্রহ কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বাজারে দামের ঘনঘন ওঠানামা ব্যবসায়ীদের জন্য অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের পরিবর্তন এবং ডলারের বিনিময় হারও দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও কমানো হয়েছে। এখন দেশের বাজারে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকায়। এর আগে সর্বশেষ গত ১২ মার্চ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, সেদিনও ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার ১০৬ টাকা।

স্বর্ণের বাজারে এভাবে ধারাবাহিক মূল্য সমন্বয়কে বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৬ দফা কমানো হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা এখনো কাটেনি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্থানীয় বাজারেও মূল্য ওঠানামা করছে।

গত বছরও দেশের স্বর্ণবাজার ছিল ব্যাপক আলোচনায়। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি—এসব কারণেই দামের এই ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করছেন, যা দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

স্বর্ণের দাম কমার খবর বাজারে ইতিবাচক সাড়া ফেললেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। রুপার বাজারেও চলতি বছর ২৬ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ১৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১০ বার কমানো হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বর্ণ ও রুপার দামের এই ওঠানামা শুধু গয়নার বাজারেই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। বিয়ের মৌসুম, উৎসব বা বিশেষ উপলক্ষে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। দাম কমলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পান এবং বাজারে বিক্রি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে দাম দ্রুত বাড়লে তা অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, যা ব্যবসায়ীদের জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম কোন দিকে যাবে তা অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা স্বর্ণের দামের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে স্বর্ণবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে।

সব মিলিয়ে, স্বর্ণের দামে নতুন করে পতন সাধারণ মানুষের জন্য সাময়িক স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে বাজারের অস্থিরতা এখনো কাটেনি। ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ভবিষ্যতের দামের প্রবণতার ওপর নজর রাখছেন। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে স্বর্ণের বাজার যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত