ইরান আগের মতো শক্তিশালী নেই: নেতানিয়াহু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
ইরান ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক হামলার ফলে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটি আর আগের মতো শক্তিশালী অবস্থায় নেই। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের প্রায় দুই সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, গত কয়েক দিনে পরিচালিত হামলা ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, “ইরান আর সেই আগের ইরান নেই।” তিনি আরও দাবি করেন, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক আঘাতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। তার দাবি, এসব হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে এবং দেশটির দীর্ঘদিনের সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এই অভিযান কেবল তাৎক্ষণিক সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেনি, বরং ইরানের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলেছে।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এবং বাসিজ বাহিনীরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এসব বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সামরিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে আসছে। হামলার ফলে তাদের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলোচিত মোজতবা খামেনি এবং লেবাননের সংগঠন হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাসেম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু সরাসরি তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, তাদের কারও জন্য তিনি “জীবনবিমা নেবেন না”, অর্থাৎ ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে সে বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে তিনি রাজি নন।

মোজতবা খামেনি সম্পর্কে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মূলত ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাবাধীন একজন নেতা। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে খামেনি প্রকাশ্যে খুব বেশি আসতে পারছেন না। সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির একটি বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার না করে সংবাদ পাঠকের মাধ্যমে পড়ে শোনানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক শক্তির প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা ইরানের জন্য শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট এবং আঞ্চলিক রাজনীতির জটিল সমীকরণের মধ্যে দেশটির জন্য নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইসরাইলও এই সংঘাতের মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা নীতিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেলবাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই অনেক দেশই দুই পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই একমাত্র কার্যকর পথ হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই উত্তেজনাকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তবে বাস্তবে এই সংঘাতের পরিণতি কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছেন না বিশ্লেষকেরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত