ঈদকে সামনে রেখে মুরগির দাম বেড়েছে, সবজির স্বস্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
ঈদ আগে মুরগির দাম বাজার

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আবারও ওঠানামা করছে। বিশেষ করে মুরগি ও গরুর মাংসের বাজারে চড়া দামের ছাপ দেখা গেছে, যেখানে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। ক্রেতা কম থাকায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে, কিন্তু ঈদের আগে মুরগির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে সব ধরনের মুরগি—ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি—দামের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রেখেছে। সোনালি মুরগি কেজি প্রতি ৩৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৭০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা জসিম জানান, ছোট ছোট অনেক খামার বন্ধ থাকায় বাজারে মুরগির সরবরাহ আগের মতো নেই। ঈদকে সামনে রেখে চাহিদাও বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।

মুরগির সঙ্গে সঙ্গে গরুর মাংসের দামও বেড়েছে। বাজারে দেখা গেছে, কেজি প্রতি গরুর মাংস ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, ঈদ ঘনিয়ে আসায় মাংসের চাহিদা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব দামেও পড়েছে। ক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদকে সামনে রেখে তারা আগেভাগে বাজার করছেন, ফলে চাহিদা বাড়ছে এবং দামও বাড়ছে।

অন্যদিকে সবজির বাজারে স্বস্তির খবর। কাঁচা মরিচের দাম কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এক সপ্তাহ আগেও একই পণ্য বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। সবজি বিক্রেতা আনিস জানান, ঈদকে সামনে রেখে অনেক ক্রেতা বাজারে কম উপস্থিত। অনেকে কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত আবার অনেকে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। ফলে চাহিদা কমে গেছে এবং দামও কিছুটা কমেছে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের আগে নিত্যপণ্যের দামের ওঠানামা স্বাভাবিক। বিশেষ করে মাংস ও মুরগি সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম বাড়ছে। একই সঙ্গে সবজির ক্ষেত্রে চাহিদা কম থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। ক্রেতাদের জন্য এই পরিস্থিতি একদিকে চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের জন্য লাভজনক।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুপক্ষই ঈদকে সামনে রেখে সচেতন। বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন, কিন্তু ক্রেতারা তৎপরভাবে দর কষাকষি করছেন। বাজারের এই চিত্র প্রমাণ করছে, ঈদকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করা কতটা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ঈদে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার মূল কারণ হলো সরবরাহ সীমিত থাকা এবং চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া। মুরগি ও গরুর মাংসের ক্ষেত্রে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, কারণ খামার বন্ধ থাকায় বাজারে আগের মতো সরবরাহ নেই। অন্যদিকে সবজির ক্ষেত্রে চাহিদা কম থাকায় দাম সামান্য কমে গেছে।

চূড়ান্তভাবে বলা যায়, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে মুরগি ও মাংসের দাম বাড়ছে, সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ক্রেতারা আগেভাগে কেনাকাটা শুরু করেছেন, আর বিক্রেতারা তাদের সরবরাহ ও দাম সমন্বয় করে বাজারে চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত