প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পাবনার চাটমোহরে কৃষক সাজেদুল ইসলামের জমির ৭ বিঘা তরমুজের গাছ দুর্বৃত্তদের দ্বারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। ঘটনার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার প্রার্থনা করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতের কোনো এক সময় এই ঘটনা ঘটে। পরদিন বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জমিতে গিয়ে তিনি নিজের চোখে দেখেন, সকল তরমুজের গাছ উপড়ে রাখা হয়েছে এবং জমির আইলের বিভিন্ন জায়গায় স্তুপ করা আছে। এ দৃশ্য দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করেন, তরমুজের গাছ নষ্ট করার পেছনে আসমানী খাতুনের হাত রয়েছে। আসমানী খাতুন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের আব্দুর রহিমের স্ত্রী।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাজেদুল ইসলাম জানান, তিনি ঋণ নিয়ে চলনবিলে ১০ বিঘা জমি লিজে নিয়ে চাষাবাদ করেন। তার মধ্যে ৭ বিঘা জমিতে রসুনের সঙ্গে তরমুজ এবং ৩ বিঘা জমিতে রসুনের সঙ্গে ঝিঙে আবাদ করেছেন। প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে তিনি আসমানী খাতুনসহ কয়েকজন শ্রমিক কাজের জন্য নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন পাঁচজনের বেশি শ্রমিক কাজে নেওয়া হবে না, কিন্তু আসমানী খাতুন পাঁচজনের পরিবর্তে ছয়জন শ্রমিক আনেন। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি হুমকি দেন, “ছয়জনকে কাজে না নিলে এর পরিণতি ভালো হবে না। এর খেসারত তোমাকে দিতে হবে।”
সাজেদুল ইসলাম জানান, হঠাৎ এক রাতের মধ্যে তার জমির সকল তরমুজের গাছ উপড়ে ফেলা হয়। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় তার প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং আসমানী খাতুনের শাস্তির দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় পাশের জমি চাষাবাদকারী মর্জিনা খাতুনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, সাজেদুল ইসলামের জমির তরমুজের গাছ নষ্ট করার পাশাপাশি তার জমির তরমুজের গাছও কেউ উড়িয়ে দিয়েছে। তারও যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার হোসেন জানান, ভুক্তভোগীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, সম্প্রতি চুরি, ত্রুটিপূর্ণ চাষাবাদ ও জমি সংক্রান্ত বিবাদ বেড়ে যাওয়ায় গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং চাষাবাদের প্রতি মনোবলকে ভেঙে দেয়। তারা আশা করছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতি পূরণ হবে।
পাবনার চাটমোহরের এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে এবং চাষিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষি উৎপাদনের জন্য জমির নিরাপত্তা অপরিহার্য, আর এ ধরনের ঘটনা কৃষক সমাজের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।