নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে আগুন, ট্রান্সফরমার পুড়ে ছাই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে আগুন, ট্রান্সফরমার পুড়ে ছাই

প্রকাশ: ১৪ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা এবং কালো ধোঁয়ায় কিছু সময়ের জন্য পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমারের কারণে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত প্রায় পৌনে ৯টার দিকে। বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের পিজিসিবি পাওয়ার প্লান্টে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি ১৩২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায় এটি স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে হঠাৎ করেই উপকেন্দ্রের ভেতর থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায় ট্রান্সফরমারের দিক থেকে আগুনের শিখা বের হচ্ছে এবং ঘন কালো ধোঁয়া আকাশের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অনেকেই দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিস। বন্দর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। এ সময় ফাঁড়ি পুলিশ এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের কর্মীরাও উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কাজে সহায়তা করেন। সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুন আশপাশের অন্যান্য স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের প্রকৌশলী নূরে আলম জানান, আগুনে একটি বড় ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এই ট্রান্সফরমারটির মাধ্যমে উপকেন্দ্র থেকে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। ট্রান্সফরমারটি পুড়ে যাওয়ার ফলে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং বন্দর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা শুরু করা হয়। অন্য গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করার জন্য প্রকৌশলীরা দ্রুত কাজ শুরু করেন। অবশেষে রাত পৌনে ১২টার দিকে বিকল্প সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়। এ সময় পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হয় অনেক এলাকাবাসীকে।

এদিকে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁড়ি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। তার ভাষায়, অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও ঘটনাটির প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। বন্দর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সঞ্জয় খান জানান, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বজ্রপাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার সময় আকাশে বজ্রপাত হচ্ছিল বলেও উপকেন্দ্রের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে যে এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সৌভাগ্যজনকভাবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, কারণ এর আগেও একই উপকেন্দ্রে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। মূল সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যাতেও এই উপকেন্দ্রের ওপেন ইয়ার্ডে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তখনও কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, একই স্থাপনায় অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার এমন ঘটনা ঘটায় উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যেকোনো ত্রুটি বা দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত করে সমাধান করা জরুরি।

বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ক্ষমতার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড সাধারণত যান্ত্রিক ত্রুটি, অতিরিক্ত চাপ, বজ্রপাত অথবা রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে ঘটতে পারে। তাই নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রযুক্তিগত মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমারটি মেরামতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রকৌশলীরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে জন্যও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্থানীয় অর্থনীতি এবং দৈনন্দিন জীবনে সাময়িক হলেও প্রভাব ফেলে। শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় যদিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবুও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে, দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেলেও এই অগ্নিকাণ্ড আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে আরও সতর্কতা এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত