সর্বশেষ :

ঈদে বকেয়া বেতন-বোনাসে শ্রমিকদের উদ্বেগ চট্টগ্রামে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
বকেয়া বেতন-বোনাসে শ্রমিকদের উদ্বেগ

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদের ছুটি শুরুর ঠিক আগে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানার শ্রমিকরা এখনও বেতন-বোনাসের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। শহরের শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর ১ হাজার ৬৭৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮৭টি কারখানার শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ৪১৩টি কারখানার ঈদ বোনাস এখনও পরিশোধ হয়নি। এতে অন্তত ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রামের শিল্প পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “শেষ কর্মদিবসে যদি বোনাস দেওয়া হয় এবং মালিক তা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে শ্রমিকরা রাস্তায় অবরোধের মতো কর্মসূচি নিতে পারেন। তাই আমরা নির্দেশ দিয়েছি, শেষ কর্মদিবসে বোনাস কখনোও দেয়ার সুযোগ রাখা যাবে না।” এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শ্রমিকদের নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে চাওয়া হচ্ছে।

শহরের স্বতন্ত্র গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে ৬৪টি এখনও বকেয়া বেতন ও বোনাসের সমস্যায় জড়িত। শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, ঈদের ছুটির আগে অর্থাৎ ১৮ মার্চের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মালিকপক্ষের আশ্বাস রয়েছে যে ঈদ শুরু হওয়ার আগেই বেতন ও বোনাস প্রদান সম্পন্ন হবে।

চট্টগ্রামের গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্যমতে, ৩৪২টি সদস্যভুক্ত গার্মেন্টসের মধ্যে ৩০২টি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে, তবে ঈদের বোনাস দিতে পেরেছে কেবল ১৮৭টি প্রতিষ্ঠান। ফলে এখনও ৪০টির বেতন এবং ১৫৫টির বোনাস বকেয়া রয়েছে। বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী জানিয়েছেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান বকেয়া রেখেছে, তারা ১৮ তারিখের মধ্যে তা পরিশোধ করবেন বলে আমাদের নিশ্চিত করেছেন।”

বিগত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে মালিকপক্ষের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কম। এর পেছনে সরকারের সমর্থন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। গার্মেন্টস সেক্টরকে দেওয়া আড়াই হাজার কোটি টাকার নগদ প্রণোদনা এবং সহজ শর্তের ঋণ সুবিধার ফলে মালিকদের আর্থিক চাপ কমেছে। বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, “আমরা চাহিদা অনুযায়ী অর্থ পেয়েছি। এবার আশা করছি কোনো জটিলতা সৃষ্টি হবে না এবং ব্যাংকগুলো দ্রুত শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাবে।”

চট্টগ্রামের তিনটি ইপিজেড ছাড়াও নগরী ও আশেপাশের গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানার শ্রমিক সংখ্যা অন্তত ১২ লাখ। এছাড়া ইপিজেডে শ্রমিকের সংখ্যা ৩ লাখের বেশি। এই বিশাল কর্মীশক্তির মধ্যে বেতন-বোনাসের বকেয়া সমস্যা সমাধান না হলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।

শ্রমিকরা দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের বিনিময়ে ঈদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই। তাই বকেয়া বেতন-বোনাসের সময়মতো পরিশোধ শিল্প মালিকদের জন্য এক জরুরি দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারী প্রণোদনা এবং শিল্প পুলিশের তৎপরতার ফলে আশা করা হচ্ছে, এবারের ঈদে শ্রমিকরা নিরাপদে তাদের বেতন-বোনাস পাবেন এবং আনন্দের সঙ্গে ছুটি কাটাতে পারবেন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে গার্মেন্টস খাত দেশের রপ্তানির অন্যতম প্রধান খাত। শ্রমিকদের সন্তুষ্টি ও আর্থিক নিরাপত্তা এই খাতের স্থায়িত্ব ও উৎপাদনশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই বেতন-বোনাসের সঠিক ও সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা শুধু শ্রমিকদের জন্য নয়, শিল্প ও অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত