অস্কার ২০২৬ বিজয়ীদের সম্পূর্ণ তালিকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
অস্কারের ৯৮তম আসর, পুরস্কার পেলেন যারা

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা হিসেবে পরিচিত একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের ৯৮তম আসরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের ঐতিহ্যবাহী ডলবি থিয়েটারে বসে এই জমকালো আয়োজন। বিশ্ব চলচ্চিত্রের তারকা, নির্মাতা, শিল্পী ও প্রযুক্তিবিদদের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এই অনুষ্ঠানে বছরের সেরা কাজগুলোর স্বীকৃতি দেওয়া হয় নানা বিভাগে।

এবারের অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন জনপ্রিয় মার্কিন কমেডিয়ান কোনান ও’ব্রায়েন। তাঁর স্বভাবসুলভ রসবোধ, মজার মন্তব্য এবং প্রাণবন্ত উপস্থিতি পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে দর্শকদের আকৃষ্ট করে রাখে। অস্কারের লাল গালিচা থেকে শুরু করে মূল মঞ্চ পর্যন্ত ছিল তারকাদের জমকালো উপস্থিতি।

৯৮তম অস্কারের আসরে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে “ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার”। চলচ্চিত্রটি সেরা সিনেমার মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করার পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগেও সাফল্য পেয়েছে। ছবিটির নির্মাতা পল টমাস অ্যান্ডারসন সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতে নেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, চলচ্চিত্রটির গল্প বলার ভঙ্গি, অভিনয়, নির্মাণশৈলী এবং আবেগঘন উপস্থাপনই একে এই বছরের অস্কারের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী করে তুলেছিল।

অভিনয়ের বিভাগেও ছিল চমক ও আবেগঘন মুহূর্ত। সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নেন মাইকেল বি জর্ডান। “সিনার্স” চলচ্চিত্রে তাঁর শক্তিশালী অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের দৃষ্টি কাড়ে। পুরস্কার গ্রহণের সময় মাইকেল বি জর্ডান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এই সম্মান শুধু তাঁর একার নয়, পুরো টিমের পরিশ্রমের ফল। তাঁর মতে, একটি চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে যে পরিমাণ শ্রম ও আত্মনিবেদন প্রয়োজন, এই পুরস্কার সেই পথচলার স্বীকৃতি।

অন্যদিকে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন জেসি বাকলি। “হ্যামনেট” চলচ্চিত্রে তাঁর গভীর আবেগময় অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। চরিত্রটির মানসিক দ্বন্দ্ব, ভালোবাসা এবং বেদনার সূক্ষ্ম প্রকাশ তাঁর অভিনয়কে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সমালোচকরা।

পার্শ্ব অভিনয়ের ক্ষেত্রেও ছিল উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতা। সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন শন পেন। “ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার” চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় ছবির নাটকীয়তা ও গভীরতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। একইভাবে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন অ্যামি ম্যাডিগান, যিনি “ওয়েপনস” চলচ্চিত্রে তাঁর চরিত্রকে অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

চিত্রনাট্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছে কয়েকটি চলচ্চিত্র। সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যের পুরস্কার গেছে “সিনার্স”-এর ঝুলিতে। ছবিটির গল্পের গঠন, চরিত্রের বিকাশ এবং সংলাপের শক্তি একে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। অন্যদিকে সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্যের পুরস্কার পেয়েছে “ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার”।

অ্যানিমেশন বিভাগেও ছিল দারুণ প্রতিযোগিতা। সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম হিসেবে পুরস্কার জিতেছে “কেপপ ডেমন হান্টার্স”। একইসঙ্গে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি পেয়েছে “দ্য গার্ল হু ক্রাইড পার্লস”। অ্যানিমেশনপ্রেমীদের কাছে এই দুটি চলচ্চিত্র ইতোমধ্যেই বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

প্রযুক্তিগত বিভাগগুলোতেও কয়েকটি চলচ্চিত্র দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে। “ফ্রাঙ্কেনস্টাইন” চলচ্চিত্রটি কস্টিউম ডিজাইন, মেকআপ ও হেয়ারস্টাইলিং এবং প্রোডাকশন ডিজাইন—এই তিনটি বিভাগে পুরস্কার জিতে নেয়। চলচ্চিত্রটির ভিজ্যুয়াল স্টাইল, সময়ের পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা এবং চরিত্রের বাহ্যিক রূপায়ণকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন বিচারকরা।

এদিকে “ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার” চলচ্চিত্রটি সম্পাদনা বিভাগেও পুরস্কার অর্জন করেছে। অন্যদিকে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে “অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ”। আধুনিক প্রযুক্তির অসাধারণ ব্যবহারের মাধ্যমে এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের নতুন এক অভিজ্ঞতা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা।

সংগীত বিভাগেও ছিল দারুণ সাফল্য। “কেপপ ডেমন হান্টার্স” চলচ্চিত্রের “গোল্ডেন” গানটি সেরা মৌলিক গানের পুরস্কার জিতে নেয়। একইসঙ্গে “সিনার্স” চলচ্চিত্রটি সেরা মৌলিক সংগীতের স্বীকৃতি পায়। সংগীতের আবেগময় উপস্থাপন ছবির গল্পকে আরও গভীর করে তুলেছে বলে মনে করেন সমালোচকরা।

শব্দ পরিকল্পনার জন্য সেরা সাউন্ড বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে “এফ১” চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রটির রেসিং দৃশ্যের বাস্তবসম্মত শব্দ উপস্থাপন দর্শকদের যেন সরাসরি রেস ট্র্যাকে নিয়ে যায়।

ডকুমেন্টারি বিভাগেও গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সেরা ডকুমেন্টারি ফিচার ফিল্ম হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে “মিস্টার নোবডি এগেনস্ট পুতিন”। রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ডকুমেন্টারিটি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্মের পুরস্কার জিতেছে “সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু”। বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীলতা এবং বৈচিত্র্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই বিভাগটি সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সিনেমাটোগ্রাফি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে “সিনার্স”। ছবিটির আলোকসজ্জা, ক্যামেরা মুভমেন্ট এবং দৃশ্য নির্মাণ চলচ্চিত্রটিকে নান্দনিক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করেন চলচ্চিত্র সমালোচকরা।

এবারের অস্কার আসর শুধু পুরস্কার বিতরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল চলচ্চিত্র শিল্পের সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি ও মানবিক গল্প বলার এক মহা উদযাপন। বিশ্বের নানা প্রান্তের দর্শক এই অনুষ্ঠান সরাসরি দেখেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজয়ীদের নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে অস্কার কেবল একটি পুরস্কার নয়; এটি সৃজনশীলতার স্বীকৃতি এবং শিল্পের প্রতি সম্মানের প্রতীক। প্রতি বছর নতুন নতুন চলচ্চিত্র, নতুন গল্প এবং নতুন প্রতিভা এই মঞ্চে জায়গা করে নেয়। ৯৮তম অস্কারও সেই ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী করল।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের এই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর আবারও প্রমাণ করল, গল্প বলার শক্তি সীমান্ত মানে না। ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ভাষা এবং ভিন্ন অভিজ্ঞতার মানুষদের একত্রিত করে সিনেমা—আর সেই শিল্পের সেরা অর্জনগুলোকেই উদযাপন করে অস্কার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত