উত্তরায় রিকশাচালক-পুলিশ সংঘর্ষে উত্তেজনা, ভাঙচুর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার
উত্তরায় রিকশাচালক পুলিশ সংঘর্ষ

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর উত্তরায় গভীর রাতে রিকশাচালককে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে রিকশা ও অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত চালকরা একটি শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর চালান এবং সড়ক অবরোধ করেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা বিরাজ করে।

রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের একটি বাণিজ্যিক ভবন ‘উত্তরা স্কয়ার’-এর সামনে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শুরুতে একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি তৈরি হলেও দ্রুত তা বড় আকার ধারণ করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের এলাকা থেকে আরও রিকশা ও অটোরিকশাচালক এসে জড়ো হন। ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনা চলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতেই ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে একজন রিকশাচালকের কথাকাটাকাটি হয়। প্রথমে বিষয়টি সামান্য তর্কবিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছু সময়ের মধ্যে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ওই রিকশাচালককে মারধর করা হয়। এই খবর দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে অন্য রিকশাচালক ও অটোরিকশাচালকরা ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হতে শুরু করেন।

ক্ষুব্ধ চালকরা ঘটনাটির প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা উত্তরা স্কয়ারের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে গভীর রাতেও ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং আশপাশের পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে উত্তেজিত কিছু চালক শপিং কমপ্লেক্সটির সামনে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকটি দোকানের কাচে আঘাত করা হয় এবং ভবনের সামনে রাখা কিছু সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় ভবনের ভেতরে থাকা ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং উত্তেজিত চালকদের একটি অংশ পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে বলে জানা গেছে। এতে কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে শুরু করে। তবে ঘটনাস্থলজুড়ে উত্তেজনা এবং আতঙ্কের পরিবেশ দীর্ঘ সময় ধরে বজায় ছিল।

এ সময় আরেকটি গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। উপস্থিত অনেকের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে আহত রিকশাচালককে শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত জনতার মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। অনেকেই ভবনের ভেতরে ঢুকে ওই চালককে খোঁজার চেষ্টা করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেন। পরে তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর ধীরে ধীরে উত্তেজনা কমে আসে এবং রাত প্রায় তিনটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গভীর রাতে হঠাৎ এমন সংঘর্ষের ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করেন, আবার কেউ কেউ ভয়ে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রফিক আহমেদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। উত্তেজনা প্রশমনে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয় এবং পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে। কে বা কারা ভাঙচুরে জড়িত ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আহত রিকশাচালকের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ করে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় তারা ভীত হয়ে পড়েছিলেন। অনেক দোকানদার দ্রুত দোকান বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। তাদের আশঙ্কা, যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো তাহলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটতে পারত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানীতে ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গুজব অনেক সময় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত তথ্য যাচাই এবং কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

রাতের উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে এলেও এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, ছোট একটি বিরোধও কখনো কখনো বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। তাই সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপই এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রধান উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত