প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নাটকীয় এক ম্যাচের সাক্ষী থাকল ফুটবলপ্রেমীরা। জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে পুরো তিন পয়েন্ট হাতছাড়া করেছে লিভারপুল। নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে শেষ পর্যন্ত টটেনহ্যাম হটস্পারের সঙ্গে এক–এক গোলে ড্র করতে হয়েছে অলরেডদের। ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় এগিয়ে থেকেও শেষ মিনিটে গোল হজম করায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে লিভারপুলকে।
রোববার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় লিভারপুলকে। ঘরের মাঠে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে দলটি। মিডফিল্ড থেকে আক্রমণভাগে দ্রুত বল সরিয়ে নিয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছিল অলরেডরা।
ম্যাচের ১৮ মিনিটেই সেই প্রচেষ্টার ফল পেয়ে যায় লিভারপুল। দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দমিনিক সোবোসলাই। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শটটি প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের হাতে লেগে দিক বদলে শেষ পর্যন্ত জালে জড়িয়ে যায়। অ্যানফিল্ডে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থক তখন উল্লাসে ফেটে পড়েন।
এই গোলটি শুধু ম্যাচে লিভারপুলকে এগিয়েই দেয়নি, ব্যক্তিগতভাবেও স্বস্তি এনে দেয় সোবোসলাইকে। কারণ গত প্রায় এক মাস ধরে তিনি গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না। দীর্ঘ গোলখরা কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে দলের আস্থাও ফিরিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার।
চলতি মৌসুমে ফ্রি-কিক থেকে এটি ছিল সোবোসলাইয়ের পঞ্চম গোল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি লিভারপুলের ইতিহাসে এক মৌসুমে ফ্রি-কিক থেকে করা গোলের ক্ষেত্রে ক্লাবের সাবেক তারকার রেকর্ডের সমতায় পৌঁছান। ফলে ম্যাচটি সোবোসলাইয়ের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো একটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
গোল হজম করার পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে টটেনহ্যাম। লিভারপুলের অর্ধে বারবার আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করতে থাকে তারা। তবে লিভারপুলের ডিফেন্স বেশ সংগঠিত থাকায় প্রথমার্ধে বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি টটেনহ্যাম।
প্রথমার্ধের শেষদিকে টটেনহ্যাম কিছুটা ছন্দ ফিরে পেলেও গোল করার মতো সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে লিভারপুল পাল্টা আক্রমণে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। লিভারপুল নিজেদের লিড ধরে রাখতে চেয়েছিল, আর টটেনহ্যাম মরিয়া হয়ে উঠেছিল সমতা ফেরানোর জন্য। মাঝমাঠে বল দখলের লড়াই তীব্র হয়ে ওঠে এবং ম্যাচের গতি বাড়তে থাকে।
টটেনহ্যাম বেশ কয়েকবার লিভারপুলের ডি-বক্সে ঢোকার চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় ব্যর্থ হয়। লিভারপুলের গোলরক্ষক এবং ডিফেন্ডাররা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বল ক্লিয়ার করে প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি হয়তো লিভারপুলের এক গোলের জয় দিয়েই শেষ হবে। অ্যানফিল্ডের দর্শকরাও তিন পয়েন্ট নিশ্চিত ধরে নিয়ে উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ফুটবলের অনিশ্চয়তাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নাটকীয় মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে সুযোগ পেয়ে যায় টটেনহ্যাম। ডি-বক্সের ভেতরে সতীর্থের কাছ থেকে ছোট একটি পাস পেয়ে নিখুঁত প্লেসিং শটে বল জালে পাঠান রিচার্লিসন। তার নেওয়া শটটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে লিভারপুল গোলরক্ষকের পক্ষে সেটি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে পুরো স্টেডিয়ামের পরিবেশ বদলে যায়। টটেনহ্যামের খেলোয়াড়রা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন, আর লিভারপুল সমর্থকদের মধ্যে নেমে আসে হতাশার ছায়া। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে যায় এক–এক গোলে ড্র।
এই ড্রয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগে টানা দুই ম্যাচে জয়হীন থাকল লিভারপুল। লিগে শীর্ষ চারের লড়াইয়ে থাকা দলটির জন্য এটি কিছুটা হতাশাজনক ফল। ৩০ ম্যাচে ১৪টি জয় ও ৭টি ড্র নিয়ে বর্তমানে তাদের সংগ্রহ ৪৯ পয়েন্ট। এই পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে দলটি।
অন্যদিকে টটেনহ্যামের জন্য এই ড্র কিছুটা স্বস্তির। কারণ প্রতিপক্ষের মাঠে শেষ মুহূর্তে গোল করে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করতে পেরেছে তারা। ৩০ ম্যাচ শেষে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে তারা লিগ টেবিলের ১৬তম স্থানে রয়েছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটি প্রিমিয়ার লিগের প্রতিযোগিতামূলক স্বভাবেরই একটি উদাহরণ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফলাফল যে বদলে যেতে পারে, এই ম্যাচ তারই প্রমাণ।
লিভারপুলের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ পুরো ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে মনোযোগ হারালে কীভাবে তিন পয়েন্ট হাতছাড়া হতে পারে, তার উদাহরণ হয়ে থাকল এই ম্যাচটি।
অন্যদিকে টটেনহ্যামের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মানসিকতারও প্রশংসা করছেন বিশ্লেষকরা। প্রায় পুরো ম্যাচ পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ফলেই তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে দুই দলেরই সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। লিভারপুল চাইবে দ্রুত জয়ের ধারায় ফিরতে, আর টটেনহ্যাম চেষ্টা করবে লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে।
ফুটবলের রোমাঞ্চকর এই ম্যাচ আবারও মনে করিয়ে দিল, শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কোনো ম্যাচের ফল নিশ্চিত নয়। আর সেই অনিশ্চয়তাই ফুটবলকে করে তুলেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি।