প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতের ওড়িশার কটক জেলায় সোমবার ভোররাতে একটি সরকারি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন রোগী এবং বাকি হাসপাতালের কর্মচারী। আগুন হাসপাতালের আইসিইউতে লেগে মুহূর্তেই আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিটের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন। হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরানোর চেষ্টা চালান। হাসপাতালের চত্বরের নতুন ভবনে আহতদের স্থানান্তর করা হয়। তবে আইসিইউতে থাকা কিছু রোগী আগুনে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মারা যান। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা মারাত্মক বলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন লাগার সময় হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি। রোগীদের দ্রুত উদ্ধার করতে ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবিলম্বে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, তবে আগুনের তাণ্ডব থেকে অনেক মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রাংশ ও হাসপাতালের সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মৃতদের পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া তিনি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য শোকের এবং এটি আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুন লাগার সময় তারা ভোরের অন্ধকারে আতঙ্কিত হয়ে ছুটে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করা এক নার্স বলেন, “আমরা কোনোভাবে রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরানোর চেষ্টা করেছি। অনেকেই জ্বলন্ত কক্ষে ফাঁস হয়ে পড়ে। এটি এমন একটি ঘটনা যা আমরা কখনো ভুলব না।”
স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে মারাত্মকভাবে দগ্ধ পাঁচজন রোগীকে বিশেষ যত্নের আওতায় রাখা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে কিছু রোগীর জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের আধিকারিকরা বলছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সময় কটক শহরের হাসপাতাল ও আশেপাশের এলাকায় অগ্নি নির্বাপণ কাজ করা হয়েছে, যা দ্রুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আইসিইউতে আগুন লাগার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলোতে আগুন ছড়ায়। এই কারণে আগুনের প্রাথমিক বিস্তার ঘটে দ্রুত। এছাড়া হাসপাতালে থাকা অন্যান্য বিভাগগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকায় বিস্তার সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আইসিইউতে থাকা রোগীদের নিরাপদভাবে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে। হাসপাতালের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
এই ঘটনার ফলে রোগী ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আহতদের চিকিৎসার জন্য মাঠে রয়েছে। ঘটনার সামাজিক ও মানবিক প্রভাবও ব্যাপক। স্থানীয় মানুষরা মৃতদের পরিবারকে সহায়তা ও সমবেদনা জানাচ্ছেন।
অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা পুনরায় ঘটার সম্ভাবনা কমাতে বিশেষজ্ঞরা হাসপাতালগুলোর জন্য শক্তিশালী অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, রোগীর জীবন ও হাসপাতালের সরঞ্জামের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রতিরোধে আরও পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।