হরমুজ প্রণালী পাহারায় মিত্রদের পাশে পাচ্ছেন না ট্রাম্প

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
হরমুজ প্রণালী ট্রাম্প সহায়তা

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক মিত্রদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে বেশিরভাগ সহযোগী দেশ। অস্ট্রেলিয়া ও জাপান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না। হরমুজ প্রণালী থেকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রবাহিত হয়। বর্তমানে ইরান কার্যকরভাবে এই সংকীর্ণ জলপথটি নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে, যা তেলের দাম ও গ্যাস সরবরাহকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

ট্রাম্প পরিস্থিতি মোকাবেলায় মিত্র দেশগুলোকে সহযোগিতার আহ্বান জানানোর পর অস্ট্রেলিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ক্যাথেরিন কিং বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ পাঠাব না। আমরা ইতোমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিমান সরবরাহ করছি এবং অস্ট্রেলিয়ানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ জাপানও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই এবং তারা স্বাধীনভাবে কী করা সম্ভব তা আইনি দিক থেকে যাচাই করছে।

ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক মিশনের মাধ্যমে জাহাজ পাহারা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে, তবে এটি কেবল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কার্যকর হবে। জার্মানি সরাসরি এই সংঘাতের অংশ হতে চায় না বলে পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছে। ফলে ট্রাম্পের জন্য হরমুজ প্রণালী রক্ষা করা এখন এক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পরিণত হয়েছে।

ইরানের এই একক কর্তৃত্বে হরমুজ প্রণালীতে যে কোনো তেল ট্যাঙ্কারের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। যেকোনো ধরনের হামলা বা সংঘাত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যানের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে একাকী অবস্থান নিতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যেই তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইউরোপে গ্যাসের মূল্যও উর্ধ্বমুখী।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা রক্ষা করতে মিত্র দেশগুলোর সহায়তা না পাওয়া ট্রাম্পের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের মতে, এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যাবে।

ট্রাম্প ইতোমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে হরমুজ প্রণালী রক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মিত্রদের সহযোগিতা ছাড়া এই রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। বিশেষ করে, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার কারণে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ এবং মিত্র দেশগুলোর অনাগ্রহ পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ করেছে। যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা উচ্চ রয়েছে, যা তেলের বাজারকে প্রভাবিত করবে। ট্রাম্পকে কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে এবং এই অঞ্চলের জন্য স্থিতিশীল সমাধান বের করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলরত জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কতটা জটিল, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যানের পর, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও অন্যান্য সমর্থক দেশগুলোকে নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের যুদ্ধ বা সামরিক উত্তেজনা তেলের সরবরাহ, বিশ্ববাজার ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্রদের অব্যাহত সমর্থন না পেলেও বিকল্প কৌশল ও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত