ঈদে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৬ নির্দেশনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
ঈদে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নির্দেশনা

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের হাসপাতালে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদফতর ১৬ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। হাসপাতালগুলোতে জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, জরুরি অস্ত্রোপচার, পরীক্ষাগার, ব্লাড ব্যাংক, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সার্বক্ষণিক চালু রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জরুরি বিভাগে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, জরুরি অস্ত্রোপচার, ল্যাব, ব্লাড ব্যাংক, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। ছুটির সময় কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জনবলকে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া যেতে পারে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করতে হবে।

অতিরিক্তভাবে সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করে জরুরি প্রয়োজনের ভিত্তিতে নিজ জেলার মধ্যে জনবল সমন্বয় করা যাবে। হাসপাতালের অন্তবিভাগীয় ইউনিট প্রধানরা প্রতিদিন তাদের বিভাগীয় কার্যক্রম তদারক করবেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ল্যাব, এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অন কল সেবা অব্যাহত থাকবে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, ছুটি শুরুর আগে পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট এবং সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুদ রাখতে হবে। সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু রাখতে হবে। ছুটিকালীন হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগাম অবহিত করতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভাগের প্রধানরা ছুটিকালীন সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করবেন এবং ঈদের দিন রোগীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এছাড়া রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন ও মনিটরিং করতে হবে। বহির্বিভাগ ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না।

বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ খোলা রাখতে হবে। রোগী রেফার করার আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং রেফার্ড রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া যেকোনো দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমে তাৎক্ষণিক জানাতে হবে।

এই নির্দেশনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদফতর দেশে ঈদুল ফিতরের সময়ে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে কোনো বিঘ্ন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষ যাতে ছুটিকালীন সময়েও সুরক্ষিত ও নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা পেতে পারে, তার জন্য সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে এগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত