প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইসলামী ব্যাংক এমক্যাশ লিমিটেডে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগকারী বি১০০ হোল্ডিংস এলএলসি কোম্পানিকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে। ব্যাংক জানিয়েছে, প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রাপ্তির পর পুনরায় কার্যকর করা হবে। বিষয়টি গত রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অবহিত করা হয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে, ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত তাদের ৩৯৬তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় সম্ভাব্য বিনিয়োগ সংক্রান্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পদক্ষেপটি পূর্বে ৮ মার্চের নীতিগত অনুমোদনের পর প্রস্তাব করা হয়েছিল। ব্যাংকের পর্ষদ চলতি বছরের ২২ জানুয়ারিতে এমক্যাশ লিমিটেডকে সহযোগী কোম্পানি হিসেবে গঠনের অনুমোদন দেয়। অনুমোদিত মূলধন এক হাজার কোটি টাকা এবং প্রাথমিকভাবে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। ইসলামী ব্যাংক এমক্যাশের ৫১ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখবে এবং বাকি শেয়ার কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ইসলামী ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি থেকে প্রায় ২৪৫ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোম্পানিটি পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বি১০০ হোল্ডিংস এলএলসি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নিবন্ধিত একটি বিনিয়োগভিত্তিক হোল্ডিং কোম্পানি। ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির নিবন্ধিত ঠিকানা লং আইল্যান্ডের আবাসিক এলাকা সয়োসেটে, ৩০ প্রিন্স ড্রাইভে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শিল্প ও সেবা খাতের ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানের বড় কোম্পানিতে রূপান্তর করা। বিনিয়োগ খাতের মধ্যে আর্থিক সেবা ও ফিনটেক, রপ্তানিমুখী উৎপাদন, ওষুধ শিল্প এবং শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত। প্রতিষ্ঠান করপোরেট গভর্ন্যান্স উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক কৌশলগত সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
যদিও কোম্পানির ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ আছে, মালিকানা সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিবন্ধিত ঠিকানার মালিক হিসেবে আরমান চৌধুরী ও সালমা চৌধুরীর নাম রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরমান চৌধুরীকে সামনে রেখে কেউ একজন বেনামে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে।
আরমান চৌধুরী একজন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পেশাদার পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিপিএ) হিসেবে পরিচিত। নিউইয়র্কের জ্যামাইকা এলাকায় তার ‘সিপিএ পিসি’ নামের প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা কর ও হিসাব সংক্রান্ত সেবা প্রদান করে। পেশাগত জীবনে তিনি সিটি গ্রুপ, মোর্গান স্টেন্ডলি ও সানোফির মতো প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এছাড়া, তিনি নিউইয়র্কভিত্তিক একটি কমিউনিটি সংগঠন ও মসজিদের নেতৃত্বেও যুক্ত।
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমানের প্রাথমিক আগ্রহের ভিত্তিতে পর্ষদ কোম্পানিটিকে এমক্যাশের কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমক্যাশ লিমিটেডের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ার স্থগিতাদেশ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে। ব্যাংক এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন যে, বিদেশি বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য। নিরাপত্তা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের উদ্যোগ স্থগিত রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বিনিয়োগকারীর যথাযথ তথ্য না থাকলে এবং আইনি অনুমোদন না মেলায় ঝুঁকি বাড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে এই ধরনের প্রক্রিয়া পরিচালনা বিনিয়োগকারীদের এবং দেশের অর্থনীতির জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
ইসলামী ব্যাংকের এই পদক্ষেপ দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব প্রতিফলিত করে। এটি ভবিষ্যতের বিনিয়োগকারীদের জন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সঠিক তথ্য ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন অগ্রাধিকার পায়।