খায়রুল বাসার–সাদনিমার রোমান্টিক থ্রিলার ‘ছায়াসঙ্গী’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
খায়রুল বাসার–সাদনিমার রোমান্টিক থ্রিলার ‘ছায়াসঙ্গী’

প্রকাশ: ১৬ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদকে ঘিরে প্রতিবছরই ছোটপর্দায় দর্শকদের জন্য নতুন নতুন গল্প ও ভিন্নধর্মী নাটক নিয়ে হাজির হন নির্মাতারা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আসছে একটি রোমান্টিক-থ্রিলার ঘরানার নাটক ‘ছায়াসঙ্গী’। নাটকটিতে প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার এবং অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান। গল্পের ভিন্নতা, রহস্যময়তা এবং ভালোবাসার আবেগ—সব মিলিয়ে নাটকটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নাটকটির গল্পে খায়রুল বাসার অভিনয় করেছেন সুলতান নামে এক কন্ট্রাক্ট কিলারের চরিত্রে। তবে এই চরিত্রটি সাধারণ অপরাধীর মতো নয়। সুলতান যাদের হত্যা করে তারা কেউই সমাজের ভালো মানুষ নয়। বরং তার টার্গেটে থাকা মানুষগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর, দুর্নীতিগ্রস্ত বা অন্যায়কারী। এই চরিত্রটি এক ধরনের নৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে, যেখানে অপরাধ ও ন্যায়বোধের মধ্যে এক অদ্ভুত ভারসাম্য তৈরি হয়।

গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন সুলতানের পরবর্তী টার্গেটে পড়েন সাদনিমা বিনতে নোমানের চরিত্রটি। এই মুহূর্ত থেকেই নাটকের গল্পে শুরু হয় নানা রহস্য ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা। সুলতান যখন তার মিশন পূরণ করতে এগিয়ে যায়, তখন একের পর এক এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা তাকে নিজের সিদ্ধান্ত, অতীত এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এই জায়গাতেই গল্পটি রোমান্স ও থ্রিলারের এক অনন্য মিশ্রণ তৈরি করে।

নাটকটি পরিচালনা করেছেন নির্মাতা সোহেল রাজ। তিনি জানিয়েছেন, দর্শকদের জন্য একটি ভিন্নধর্মী গল্প উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। গল্পের মধ্যে যেমন রহস্য ও অ্যাকশন রয়েছে, তেমনি রয়েছে গভীর মানবিক অনুভূতি এবং ভালোবাসার শক্তি।

খায়রুল বাসার নাটকটির গল্প সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান, এই নাটকে ভালোবাসার একটি বিশেষ দিক তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, কঠিন মানুষও ভালোবাসা পেলে অনেক বেশি মানবিক হয়ে উঠতে পারে। তবে সেই মানবিকতা ধরে রেখে বেঁচে থাকা সবসময় সহজ নয়। সুন্দর কিছু আগলে রাখা কঠিন, কারণ সমাজে অনেক সময় সেই সৌন্দর্যকে ধ্বংস করার প্রবণতা দেখা যায়।

তার ভাষায়, এই গল্পের মধ্যে এমন একটি মানুষের কাহিনি রয়েছে যে জীবনের অনেক ভুল পথ পেরিয়ে এসেছে। কিন্তু ভালোবাসা তাকে নতুন করে ভাবতে শেখায় এবং সে নিজেকে পরিবর্তনের চেষ্টা করে। খায়রুল বাসার বলেন, তার কাছে ‘ছায়াসঙ্গী’ অন্য অনেক কাজের তুলনায় আলাদা। এখানে তিনি এক ধরনের বিপ্লবী প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে প্রেমিকার ভালোবাসায় নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে।

নাটকটির শুটিং নিয়েও রয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা। পরিচালক সোহেল রাজ জানান, নাটকে বেশ কিছু অ্যাকশন দৃশ্য রয়েছে এবং এসব দৃশ্যের বেশিরভাগই খায়রুল বাসার নিজেই করেছেন। কোনো ডামি ব্যবহার না করে তিনি নিজের শরীর দিয়ে এসব দৃশ্য সম্পন্ন করেছেন।

নির্মাতা আরও জানান, শুটিংয়ের সময় খায়রুল বাসার গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। তার শরীরের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১০৩ ডিগ্রি। তবুও তিনি শুটিং বন্ধ করেননি। বরং অসুস্থতা নিয়েই তিনি দৃশ্যগুলো সম্পন্ন করেছেন। বিশেষ করে বৃষ্টির মধ্যে করা একটি দৃশ্যের কথা উল্লেখ করে সোহেল রাজ বলেন, জ্বর থাকা সত্ত্বেও তিনি সেই দৃশ্যটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন।

এ বিষয়ে খায়রুল বাসার নিজেও কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি জ্বরকে খুব বড় কোনো অসুস্থতা হিসেবে ভাবেন না। তবে অসুস্থ থাকলে তখন বুঝতে পারেন সুস্থতা কত বড় একটি নেয়ামত। তিনি জানান, ক্যামেরা চলার মুহূর্তে তিনি নিজের শারীরিক কষ্ট বা অসুস্থতার কথা ভুলে যান।

মজা করে তিনি বলেন, হয়তো খায়রুল বাসার অসুস্থ থাকতে পারেন, কিন্তু সুলতান অসুস্থ ছিল না। চরিত্রের প্রতি এমন নিবেদনই একজন অভিনেতাকে দর্শকের কাছে আলাদা করে তোলে বলে মনে করেন অনেকেই।

নাটকটিতে একটি বিশেষ গানও রয়েছে, যা ইতোমধ্যেই দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘অনেক ভালোবেসে’ শিরোনামের এই গানটির কথা লিখেছেন সোমেশ্বর অলি এবং সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন সাজিদ সরকার। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন নিলয় এবং সুস্মিতা আনিস। কয়েকদিন আগে গানটি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছে।

ঈদের চাঁদ রাতেই ‘ছায়াসঙ্গী’ মুক্তি পাবে সুস্মিতা আনিসের ইউটিউব চ্যানেলে। নির্মাতারা আশা করছেন, গল্পের ভিন্নতা এবং অভিনয়ের শক্তির কারণে নাটকটি দর্শকদের কাছে ভালো লাগবে।

পরিচালক সোহেল রাজ এর আগে ‘নিরুদ্দেশ’সহ বেশ কিছু নাটক নির্মাণ করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার তিনি নতুন গল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন। ‘ছায়াসঙ্গী’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দর্শকদের জন্য একটি ভালো কাজ করার চেষ্টা করেছেন। দর্শক নাটকটি দেখবেন এবং এর ভালো-মন্দ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করবেন—এটাই তার প্রত্যাশা।

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে বর্তমানে রোমান্টিক-থ্রিলার ঘরানার গল্প খুব বেশি দেখা যায় না। সেই জায়গা থেকে ‘ছায়াসঙ্গী’ দর্শকদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গল্পের রহস্য, ভালোবাসা এবং মানবিক পরিবর্তনের বার্তা নাটকটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

ঈদের বিশেষ আয়োজন হিসেবে নির্মিত এই নাটকটি দর্শকদের কাছে কতটা জনপ্রিয়তা পাবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে এর গল্প, অভিনয় এবং নির্মাণশৈলী ইতোমধ্যেই অনেকের আগ্রহ তৈরি করেছে। ফলে চাঁদ রাতে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন নাট্যপ্রেমীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত