ঈদের আগে বাসা ছাড়ার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক হবেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৮ বার
ঈদের আগে বাসা ছাড়ার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক হবেন

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে যান নিজ নিজ গ্রামে, পরিবারের কাছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে কর্মসূত্রে থাকা মানুষেরা ঈদের সময় প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়িতে ফেরেন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীরাও পরিবার নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নেন। ফলে ঈদের আগে শহরগুলোতে এক ধরনের ব্যস্ততা দেখা যায় এবং একই সঙ্গে শুরু হয় বাড়ি ফাঁকা রেখে যাওয়ার চিন্তাও।

এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। সরকারি কর্মচারীদের জন্য সোমবার (১৬ মার্চ) ছিল ঈদুল ফিতরের আগের শেষ কর্মদিবস। পরদিন থেকে শুরু হচ্ছে টানা সাত দিনের ছুটি। এই দীর্ঘ ছুটি কাটাতে অনেকেই ইতোমধ্যে গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন কিংবা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে আনন্দের এই যাত্রার আগে বাড়ি ফাঁকা রেখে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বাড়ি ছেড়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে যাওয়ার আগে প্রথমেই নজর দিতে হবে গ্যাস সংযোগের দিকে। রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার কিংবা মূল গ্যাস লাইনের চাবি অবশ্যই বন্ধ করে যেতে হবে। অনেক সময় গ্যাসের চুলা বা লাইনে সামান্য লিক থাকলেও তা ধীরে ধীরে ঘরে জমতে পারে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই গ্যাসের সব সংযোগ বন্ধ করে রাখা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার ছুটি শেষে বাড়িতে ফিরে এসে চুলা জ্বালানোর আগে কিছু সময় দরজা-জানালা খুলে রাখা উচিত। এতে ঘরে জমে থাকা গ্যাস থাকলে তা বাইরে বেরিয়ে যাবে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে।

গ্যাসের পাশাপাশি পানির বিষয়টিও খেয়াল রাখা জরুরি। অনেক সময় তাড়াহুড়ার কারণে বাসার পানির কল খোলা থেকে যায় অথবা পাইপলাইনে সামান্য সমস্যা থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে পানি পড়তে পারে। এতে একদিকে যেমন পানির অপচয় হয়, অন্যদিকে বাসার মেঝে বা দেয়ালে ক্ষতি হতে পারে। তাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে সব পানির কল ও পাইপলাইন ভালোভাবে বন্ধ আছে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রেও সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় বাসার লাইট, ফ্যান বা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস অন অবস্থায় রেখে চলে যান অনেকে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব যন্ত্র চালু থাকলে শর্টসার্কিট বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে সব সুইচ বন্ধ করে রাখা উচিত। বিশেষ করে টেলিভিশন, মাইক্রোওয়েভ, চার্জার কিংবা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সংযোগ বন্ধ করে রাখা নিরাপদ।

ফ্রিজের বিষয়েও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। অনেকেই ফ্রিজে বিভিন্ন ধরনের খাবার, সবজি কিংবা ফলমূল রেখে যান। কিন্তু দীর্ঘ ছুটিতে বাড়ি ফাঁকা থাকলে এসব খাবার পচে যেতে পারে এবং ফ্রিজে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। তাই বাড়ি ছাড়ার আগে পচনশীল খাবারগুলো শেষ করে ফেলা ভালো। যদি ফ্রিজে খাবার না থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে রাখা যেতে পারে। একই সঙ্গে ফ্রিজ পরিষ্কার করে রাখা উচিত, যাতে ফিরে এসে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়।

ঈদের সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ অনেক সময় চোরচক্র কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। তাই বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির প্রধান দরজার পাশাপাশি ছাদের দরজা বা জানালাগুলো ভালোভাবে বন্ধ করে রাখা প্রয়োজন। দরজায় শক্ত ও ভালো মানের তালা ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া বাসার আলমারি, টেবিল কিংবা দেরাজে থাকা নগদ টাকা, অলঙ্কার বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিরাপদভাবে লক করে রাখা উচিত। অনেকেই প্রয়োজনে এসব মূল্যবান জিনিস ব্যাংকের লকারেও রেখে যান।

পোষা প্রাণী থাকলে তাদের বিষয়েও বাড়তি ভাবনা প্রয়োজন। অনেকেই বাড়িতে বিড়াল, কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী লালন-পালন করেন। দীর্ঘ সময় বাড়ি ফাঁকা রেখে এসব প্রাণীকে একা রেখে যাওয়া তাদের জন্য কষ্টকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যদি সম্ভব হয় তবে তাদের সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আর তা সম্ভব না হলে পরিচিত কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর কাছে রেখে যাওয়া ভালো। বর্তমানে অনেক শহরে পোষা প্রাণীর জন্য বিশেষ কেয়ার সেন্টারও রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের যত্ন নেওয়া হয়।

বাড়ি ছাড়ার আগে রান্নাঘর পরিষ্কার করে রাখা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যবহৃত থালা-বাসন ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখতে হবে। সিঙ্ক, কেবিনেট ও শেলফ পরিষ্কার থাকলে বাড়ি ফিরে দুর্গন্ধ বা অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে না। একই সঙ্গে বাসার বিভিন্ন জায়গায় থাকা ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দেওয়া উচিত। এতে বাড়ি ফিরে একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে পুরো বাড়িটি একবার ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। দরজা-জানালা বন্ধ আছে কি না, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ আছে কি না এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদে রাখা হয়েছে কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে অনেক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। অনেকেই প্রতিবেশীদের জানিয়ে যান যে তারা কয়েকদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছেন। এতে প্রয়োজনে প্রতিবেশীরা বাড়ির দিকে নজর রাখতে পারেন।

ঈদের আনন্দের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি ছোট অসতর্কতা পুরো আনন্দকে ম্লান করে দিতে পারে। তাই বাড়ি ফাঁকা রেখে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করলে ঈদের ছুটি আরও নিশ্চিন্তে উপভোগ করা সম্ভব।

পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে যাওয়া অবশ্যই আনন্দের। কিন্তু সেই আনন্দকে নিরাপদ রাখতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি। সচেতনতা ও সামান্য প্রস্তুতিই পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত