প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রোজার সময় শরীরে পানিশূন্যতা এবং লবণের অভাবের কারণে লো ব্লাড প্রেশারের সমস্যা অনেকেই ভোগেন। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বা দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থাকার পর রোজাদারের শরীরের রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে। মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, চোখে অন্ধকার দেখা, বমি বমি ভাব এমন সব লক্ষণ লো ব্লাড প্রেশারের সংকেত দেয়। এ ধরনের অবস্থায় ইফতারের সময় সতর্কতার সঙ্গে খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লো ব্লাড প্রেশার থাকলে প্রথমে ইফতারে খেজুর খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি, পটাশিয়াম এবং মিনারেল থাকে যা দ্রুত শক্তি জোগায়। সারাদিন না খেয়ে থাকার পর শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পেতে খেজুরের মতো প্রাকৃতিক খাবার খুবই কার্যকর। খেজুর গ্রহণ করলে শুধু শক্তিই ফিরে আসে না, রক্তচাপও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
ইফতারের শুরুতেই লেবু এবং সামান্য লবণ মিশ্রিত পানি বা শরবত পান করা প্রেশার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পানি ও লবণের মাধ্যমে শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য ঠিক থাকে, যা মাথা ঘোরা এবং দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে। লেবুর সঙ্গে থাকা ভিটামিন সি রক্তনালী ও শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করে।
ফলের জুস বা ডাবের পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং দ্রুত শক্তি যোগায়। ডাবের পানি খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয় এবং শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য ঠিক থাকে। কমলার জুস বা তরমুজের জুসও লো ব্লাড প্রেশারের সময় রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও এই ধরনের জুসে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং পানিশূন্যতা দূর করার বৈশিষ্ট্য রোজাদারের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম লো ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। কলা খেলে দুর্বলতা কমে এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক থাকে। রোজাদারদের জন্য কলা একটি সহজে হজমযোগ্য এবং পুষ্টিকর খাবার। এছাড়া কলা খেলে ইফতারের পর শরীরে জ্বালানি দ্রুত যোগ হয়, যা সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকার পর দেহকে শক্তি জোগায়।
হালকা সবজি বা চিকেন স্যুপ ইফতারের সময় শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং প্রয়োজনীয় লবণ ও পুষ্টি সরবরাহ করে। স্যুপ শরীরকে দ্রুত শক্তি দেয় এবং হজমে সহায়তা করে। স্যুপের মধ্যে থাকা লবণ, ভিটামিন ও খনিজ লো ব্লাড প্রেশারের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লো ব্লাড প্রেশারের সমস্যা থাকলে ইফতারের সময় খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করাও অপরিহার্য। রোজা শেষে দ্রুত শক্তি ফিরে পেতে পানি, লেবু-লবণ মিশ্রিত শরবত, ফলের জুস এবং হালকা খাবার গ্রহণ করা উচিত। এতে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও বমি ভাবের মতো উপসর্গগুলো কমে যায় এবং শরীর পুনরায় সচল হয়।
একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, লো ব্লাড প্রেশার থাকলে ইফতারের সময় ভোজ্য খাবারের মধ্যে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল, হালকা প্রোটিন এবং পর্যাপ্ত তরল রাখার অভ্যাস করতে হবে। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ঠিক রাখে। এছাড়া ইফতারের সময় অতিরিক্ত ভারী বা তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ তা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং শরীরকে আরও দুর্বল করতে পারে।
রোজাদারেরা ইফতারের সময় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করলে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয় এবং লো ব্লাড প্রেশারের ঝুঁকি কমে। তাই খেজুর, লেবু-লবণ পানি, ফলের জুস, কলা এবং হালকা স্যুপের মতো খাবার ইফতারের সময় রাখতে হবে। এছাড়া রোজা শেষে পর্যাপ্ত পানি পান করা, দ্রুত শক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য অপরিহার্য।
রোজাদারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরের সংকেতগুলো খেয়াল করা। মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, চোখে অন্ধকার দেখা বা বমি বমি ভাব দেখা দিলে দ্রুত বসে বা শুয়ে পড়া এবং তরল গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।
সঠিক খাবার নির্বাচন এবং সঠিক পরিমাণে পানি পান করলে লো ব্লাড প্রেশারের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। এতে রোজা রাখা সহজ হয় এবং স্বাস্থ্যও অক্ষুণ্ণ থাকে। রোজাদারদের ইফতারের সময় এমন খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত, যা শরীরকে পুনরায় শক্তি দেয়, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে এবং সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে।