হরমুজ প্রণালীতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
হরমুজ প্রণালীতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ছে

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি যে তারা ইরানের নৌ-ক্ষমতা ধ্বংস করতে সক্ষম, তা উড়িয়ে দিয়েছে এবং স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে পারস্য উপসাগরে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা ছড়াতে গেলে তারা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি আইআরজিসি নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব অটুট। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যদি সত্যিই সাহসী হন, তাহলে তিনি পারস্য উপসাগরে তার জাহাজ পাঠাতে পারেন, কিন্তু এই উত্তেজনায় ইরান তাদের প্রতিরোধ শক্তি দিয়ে মোকাবিলা করবে।

জেনারেল নাইনি আরও জানান, ইরান ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩,৬০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যুদ্ধ তখনই শেষ হবে যখন শত্রুরা আমাদের সামরিক ও সামাজিক প্রতিরোধের শক্তি স্বীকার করবে। আমরা আক্রমণকারীকে শাস্তি দিতে চাই এবং শত্রুর ওপর আমাদের ভারী ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রাখব।”

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা গত কয়েক মাসে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর ইসরাইল এবং মার্কিন যৌথ হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় ১,৩০০ জন নিহত হওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা আরও বাড়েছে। ওই হামলার জবাবে ইরান ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া মার্চের শুরু থেকে তারা কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারস্য উপসাগরের এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের প্রধান তেল পরিবহন পথগুলোর মধ্যে একটি। যদি ইরান এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়, তবে এটি গ্লোবাল অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন জাহাজ পাঠানোর যে হুঁশিয়ারি তারা দিয়েছে, তা শুধু প্রতিরোধের এক প্রমাণ নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করার একটি উপায়ও। তারা বলেন, ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হুঁশিয়ারি কেবল রাজনৈতিক বার্তা নয়; এটি ইরানের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি আঞ্চলিক ক্ষমতার প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান পারস্য উপসাগরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আঞ্চলিক নৌকো শক্তির মধ্যমান হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে চাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন কংগ্রেস এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা রোধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে বারবার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে তারা তাদের নৌ-সীমা এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা লাইন অটুট রাখবে।

আইআরজিসি মুখপাত্র নাইনি বলেন, “আমরা আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত, এবং আমাদের শত্রুদের সতর্ক করতে চাই। পারস্য উপসাগরে যে কোনো হুমকি মোকাবিলা করার জন্য আমাদের নৌবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত।” তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক কক্ষগুলোতে।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করাচ্ছেন যে, এই উত্তেজনা শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে। পারস্য উপসাগরীয় তেল পরিবহন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যও অস্থির হবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নীতি ও কূটনৈতিক চেষ্টার ওপরও বড় চাপ সৃষ্টি হবে।

আইআরজিসির সামরিক কৌশল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি আঞ্চলিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে চায়। তারা মনে করেন, ইরান যদি কোনও ধরনের সামরিক উত্তেজনা মোকাবিলা করে, তবে তা আন্তর্জাতিক নীতি এবং সামরিক ব্যালেন্সে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রেরণ করবে।

এমন পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে যে কোনো ধরনের উত্তেজনা বিশ্বরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এখন কূটনৈতিক সংলাপ, শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলা সবচেয়ে জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত