নওগাঁয় বাসে ৬ কোটি টাকার আইস মাদক উদ্ধার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
নওগাঁ বাসে আইস মাদক উদ্ধার

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা নওগাঁ-তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যাত্রীবাহী একটি বাসে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা মূল্যের ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’ জব্দ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব না হওয়ায় পাচার চক্রের কৌশল ও তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ থেকে বগুড়াগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে করে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের চেষ্টা চলছে। এই তথ্য পাওয়ার পরপরই ১৬ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত অভিযানে নামে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন ১৬ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার ও সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম। অভিযানে আরও অংশ নেন নওগাঁ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার এবং নওগাঁ সদর মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। যৌথ এই টাস্কফোর্সের উপস্থিতিতে অভিযানটি আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে সাহাপুর এলাকার হোটেল মল্লিকার সামনে সন্দেহভাজন বাসটি থামানো হয়। এরপর শুরু হয় তল্লাশি। প্রথমদিকে তেমন কিছু না মিললেও, পরে বাসের ভেতরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মালিকবিহীন একটি প্যাকেট থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বাংলাদেশে ‘আইস’ নামে পরিচিত এই মাদকটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং উচ্চমূল্যের হওয়ায় এটি সাধারণত সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পাচার করা হয়।

তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযানের সময় বাসে থাকা কোনো যাত্রী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পাচারকারীরা আগে থেকেই পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মাদক রেখে পালিয়ে যায় অথবা এমনভাবে লুকিয়ে রাখে যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়।

১৬ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম দিবাগত রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, উদ্ধার করা মাদক নওগাঁ সদর মডেল থানায় জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তসহ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত রাখবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের একটি রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথের মতো উচ্চমূল্যের মাদক সাম্প্রতিক সময়ে বেশি পাচার হচ্ছে। এসব মাদক দেশের ভেতরে ছড়িয়ে পড়লে তা তরুণ সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি পাচারকারীদের নতুন কৌশল নিয়েও ভাবনার অবকাশ রয়েছে। যাত্রীবাহী বাসকে ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের ঘটনা প্রমাণ করে, পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত তাদের পদ্ধতি পরিবর্তন করছে। ফলে তাদের মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান বাড়ায় মাদক পাচার কিছুটা কমেছে। তবে এ ধরনের বড় চালান উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে, চক্রগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং সুযোগ পেলেই তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, মাদক শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটও বটে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো, মাদকবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিকতা ও সমন্বয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল এই সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।

নওগাঁর এই অভিযান তাই শুধু একটি সফল উদ্ধার অভিযানের গল্প নয়, বরং এটি দেশের চলমান মাদকবিরোধী লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত