নেইমারহীন ব্রাজিল, বিশ্বকাপে কি ফিরবেন তারকা?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার
নেইমারহীন ব্রাজিল

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রাজিল ফুটবল মানেই ঝলমলে তারকার মিছিল, দাপুটে আক্রমণভাগ আর বিশ্বজয়ের অদম্য স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন নেইমার জুনিয়র। কিন্তু সময়ের পালাবদলে এবার যেন এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আসন্ন দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের দলে নেইমারের নাম না থাকায় ব্রাজিলজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে উদ্বেগ—তবে কি বিশ্বকাপের মহারণেও দেখা যাবে না সেলেসাওদের এই বড় তারকাকে?

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির সাম্প্রতিক দল ঘোষণার পর এই প্রশ্নই এখন ফুটবলবিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি নেইমারের। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের জন্য এই ম্যাচগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন, দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে এই ম্যাচ দিয়েই হয়তো জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ তৈরি হবে নেইমারের জন্য। কিন্তু আনচেলত্তির স্পষ্ট বার্তা—এখনো পুরোপুরি ফিট নন তিনি, আর ফিটনেসের সঙ্গে কোনো আপস করতে রাজি নন অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ।

দল ঘোষণার সময় আনচেলত্তি বলেন, শতভাগ ফিট থাকলে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেতে পারেন নেইমার। তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। কোচের ভাষায়, প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁর প্রয়োজন এমন খেলোয়াড়, যারা শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং মাঠে নিয়মিত খেলছে। এই মুহূর্তে নেইমারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে কোচিং স্টাফের আস্থা অর্জন করা।

নেইমারের জাতীয় দলে অনুপস্থিতির গল্পটা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে। সে সময় গুরুতর হাঁটুর চোটে পড়েন তিনি। এরপর দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় পর তিনি ক্লাব ফুটবলে ফিরেছেন। শৈশবের ক্লাব সান্তোসের হয়ে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে কয়েকটি ম্যাচ খেলেছেন এবং এক ম্যাচে গোলের সহায়তাও করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, সেই পুরোনো গতি, সৃজনশীলতা আর ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা কি পুরোপুরি ফিরে এসেছে?

নিজে অবশ্য আশাবাদী নেইমার। এক ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, তাঁর লক্ষ্য বিশ্বকাপে খেলা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোচিং স্টাফের হাতে। দলে থাকুন বা না থাকুন, ব্রাজিল দলকে সমর্থন করে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যে ফুটবলপ্রেমীরা যেমন আবেগাপ্লুত হয়েছেন, তেমনি বুঝতে পারছেন সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন সময়। কারণ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে ক্লাব ফুটবলে ভালো পারফরম্যান্স দেখানো ছাড়া বিকল্প পথ নেই।

এদিকে নেইমার না থাকলেও আনচেলত্তি নতুন মুখদের সুযোগ দিয়েছেন দলে। তরুণ প্রতিভা এনদ্রিককে স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে। ইউরোপে ধারে খেলতে গিয়ে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো এবং বোর্নমাউথের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান ভিতর। এতে বোঝা যাচ্ছে, দলকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতেও মনোযোগী কোচ।

দলের অভিজ্ঞ তারকারাও রয়েছেন স্কোয়াডে। গোলপোস্টের নিচে আলিসন ও এদেরসনের মতো বিশ্বমানের গোলরক্ষকরা ব্রাজিলের শক্তি বাড়িয়েছেন। রক্ষণভাগে মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস বা ব্রেমারের মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতি দলকে স্থিতিশীলতা দেবে। মাঝমাঠে কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া কিংবা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গতি ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি ব্রাজিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামঞ্চ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় ২৬ মার্চ রাতে বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ১ এপ্রিল ভোরে অরল্যান্ডোতে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে। এই দুই ম্যাচে পারফরম্যান্সের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে দলের আত্মবিশ্বাস এবং বিশ্বকাপের আগে কৌশলগত পরিকল্পনা।

আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের মূল পর্বে ব্রাজিল মাঠে নামবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে। গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়লেও বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আর নেইমারের মতো অভিজ্ঞ ও ম্যাচজয়ী খেলোয়াড় না থাকলে চাপ আরও বাড়বে, সেটিও মানছেন অনেক সাবেক ফুটবলার।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নেইমারের ক্যারিয়ার এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। একদিকে বয়স ও ইনজুরির প্রভাব, অন্যদিকে তরুণদের উত্থান—সব মিলিয়ে তাঁর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তবে ইতিহাস বলছে, কঠিন সময়েও বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তাই বিশ্বকাপের আগে যদি পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠেন এবং ক্লাব ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে জাতীয় দলে ফেরার দরজা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

ব্রাজিলের সমর্থকদের মনেও চলছে আশা-নিরাশার দোলাচল। কেউ মনে করছেন, দলের নতুন প্রজন্মের ওপর ভর করেই এবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখবে সেলেসাওরা। আবার অনেকের বিশ্বাস, বড় মঞ্চে নেইমারের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এখনও অপরিহার্য। শেষ পর্যন্ত সময়ই বলে দেবে, বিশ্বকাপের মঞ্চে হলুদ জার্সি পরে আবার দেখা যাবে কি না এই সুপারস্টারকে।

একটি বিষয় নিশ্চিত—নেইমারকে ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকলেও ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন থেমে নেই। নতুন পরিকল্পনা, নতুন মুখ এবং পুরোনো ঐতিহ্যের সমন্বয়ে দল এগিয়ে যাচ্ছে নিজেদের লক্ষ্যের দিকে। আর ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন, শেষ মুহূর্তে হয়তো নাটকীয়ভাবেই ফিরে আসবেন তিনি, আবারও হয়ে উঠবেন সেলেসাওদের আস্থার প্রতীক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত