পিএসএলে শরিফুল-নাহিদ একসঙ্গে পেশোয়ারে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
পিএসএলে শরিফুল-নাহিদ

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উপস্থিতি প্রতি বছরই বাড়ছে। এবারের আসরেও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হলেন জাতীয় দলের বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। নিলামে দল না পেলেও শেষ পর্যন্ত সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে তাঁকে দলে ভিড়িয়েছে পেশোয়ার জালমি। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে, পিএসএলের ১১তম আসরে হলুদ জার্সিতে দেখা যাবে এই তরুণ পেসারকে। একই দলে খেলবেন আরেক বাংলাদেশি গতিময় বোলার নাহিদ রানা, ফলে পেশোয়ারের বোলিং আক্রমণে তৈরি হয়েছে নতুন এক বাংলাদেশি জুটি।

২৪ বছর বয়সী শরিফুলের জন্য এটি হতে যাচ্ছে পিএসএলে প্রথম অংশগ্রহণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্স তাঁকে এই সুযোগ এনে দিয়েছে। বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণে তিনি এখন অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি—তিন সংস্করণেই ধারাবাহিকভাবে খেলছেন। বিশেষ করে নতুন বলে সুইং এবং পুরোনো বলে কার্যকর কাটার-স্লোয়ার ব্যবহারের কারণে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর গুরুত্ব বেড়েছে।

পেশোয়ার জালমি শরিফুলকে দলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছে, তাদের ‘ইয়েলো স্টর্ম’ আরও শক্তিশালী হলো। বাংলাদেশের এক্সপ্রেস বাঁহাতি পেসার এখন পিএসএলে ঝড় তুলতে প্রস্তুত। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির এমন আত্মবিশ্বাসের পেছনে বড় কারণ তাঁর সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্ম। গত জানুয়ারিতে শেষ হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ৫.৮৪ ইকোনমি রেটে ২৬টি উইকেট নিয়ে তিনি হন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। শুধু তাই নয়, বিপিএলের ইতিহাসে এক আসরে কোনো বোলারের সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও গড়েন তিনি। এমন পারফরম্যান্সের পরও পিএসএলের নিলামে অবিক্রিত থাকা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল।

গত মাসে অনুষ্ঠিত নিলামে শরিফুলের ভিত্তিমূল্য ছিল ১ কোটি ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি। নিলামের সময় কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে না নিলেও শেষ পর্যন্ত সরাসরি চুক্তিতে সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য বড় স্বস্তির খবর। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পিএসএল একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। পাকিস্তানের কন্ডিশনে খেলে নিজের দক্ষতা আরও শানিত করার সুযোগ পাবেন তিনি।

শরিফুল একা নন, এবারের পিএসএলে বাংলাদেশের আরও কয়েকজন ক্রিকেটার খেলবেন। আগেই দল পেয়েছিলেন পেসার নাহিদ রানা, অলরাউন্ডার পারভেজ হোসেন, লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন এবং বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। শুরুতে নাহিদ ও পারভেজও নিলামে অবিক্রিত ছিলেন। পরে ৬০ লাখ পাকিস্তানি রুপি ভিত্তিমূল্যে দল পান তাঁরা। তবে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন মোস্তাফিজ। সরাসরি চুক্তিতে ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে তাঁকে দলে নেয় লাহোর কালান্দার্স। তাঁর সঙ্গে একই দলে খেলবেন পারভেজ হোসেন, ফলে সেই ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও তৈরি হয়েছে বাংলাদেশি সমন্বয়।

অন্যদিকে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজের হয়ে খেলবেন। প্রায় ৩ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে তাঁকে দলে নিয়েছে দলটি। গত মৌসুমে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে পিএসএল জয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। ফলে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি লিগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবার আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, শরিফুলের পিএসএলে সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা। বিদেশি লিগে নিয়মিত খেললে তাঁর অভিজ্ঞতা বাড়বে, যা জাতীয় দলের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি নাহিদ রানার মতো তরুণ পেসারের সঙ্গে একই দলে খেলা তাঁদের পারস্পরিক বোঝাপড়াও উন্নত করবে।

পিএসএল বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় টি–টোয়েন্টি লিগগুলোর একটি। এখানে বিশ্বের নামী-দামী ক্রিকেটাররা অংশ নেন। সেই মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উপস্থিতি দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপিএলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লিগে খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। এতে তাঁদের দক্ষতা যেমন বাড়ছে, তেমনি আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পেশোয়ার জালমির হয়ে শরিফুল কেমন পারফরম্যান্স করেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন বল হাতে উইকেট নেওয়া, ডেথ ওভারে রান নিয়ন্ত্রণ করা—এই দুই ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে পিএসএলের ব্যাটিং–বান্ধব উইকেটে সফল হতে পারলে তা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য বড় অর্জন হবে।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি পিএসএলের প্রতিযোগিতাকেও আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। সমর্থকেরা আশা করছেন, এবারের আসরে শরিফুল, নাহিদ, মোস্তাফিজ কিংবা রিশাদের পারফরম্যান্স নতুন করে আলোচনায় আনবে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পথে এই লিগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সব মিলিয়ে পিএসএলের নতুন মৌসুমে পেশোয়ার জালমির জার্সিতে শরিফুল-নাহিদের একসঙ্গে খেলা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। মাঠে তাঁদের গতির ঝড়, সুইং আর কৌশলী বোলিং হয়তো এনে দেবে নতুন সাফল্যের গল্প। এখন অপেক্ষা কেবল মাঠে নেমে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত