প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সরকারি ছুটির প্রথম দিনেই রাজধানীজুড়ে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা। বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশন—সবখানেই দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। তবে স্বস্তির খবর হলো, অতীতের মতো সড়কে দীর্ঘ যানজট কিংবা শিডিউল বিপর্যয়ের চিত্র এবার খুব একটা চোখে পড়েনি। নির্ধারিত সময় মেনে যানবাহন চলাচল করায় যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তি নিয়েই রাজধানী ছাড়ছেন।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা যায়, বাসগুলো সময় অনুযায়ী কাউন্টারে পৌঁছাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করার ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি যাত্রীদের। পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, মহাসড়কে যানজট না থাকায় বাস চলাচল নির্বিঘ্ন হয়েছে। এতে করে যাত্রীদের যাত্রাও স্বস্তিদায়ক হচ্ছে।
তবে বাসযাত্রীদের অনেকেই ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছু রুটে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীদের মধ্যে এই অভিযোগ বেশি শোনা গেছে। যদিও পরিবহন শ্রমিকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, মহাসড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত হয়রানির শিকার হননি তাঁরা। ফলে ভাড়া বাড়ানোর প্রশ্নও ওঠে না।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার ঈদযাত্রা শুরুর প্রথম দিনেই যানজট না থাকাটা বড় স্বস্তির বিষয়। সাধারণত ছুটির শুরুতেই ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ কিংবা উত্তরবঙ্গের মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের খবর পাওয়া যায়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক। ফলে বাসের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কাও কম।
এদিকে নদীপথেও শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার-পরিজন নিয়ে যাত্রীরা ভোর থেকেই ঘাটে ভিড় করতে শুরু করেন। টিকিট সংগ্রহ, লাগেজ বহন এবং লঞ্চে ওঠার জন্য ছিল ব্যাপক ব্যস্ততা। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য একের পর এক লঞ্চ ছেড়ে গেছে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের যাত্রীরা নদীপথকেই বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
লঞ্চযাত্রীদের অনেকেই জানিয়েছেন, নির্ধারিত ভাড়াতেই টিকিট পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তেমন শোনা যায়নি। এতে করে যাত্রীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাটজুড়ে নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের উপস্থিতি যাত্রীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনেও ছিল মানুষের ঢল। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে যাত্রীচাপ ছিল অনেক বেশি। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা নিজের কাঙ্ক্ষিত আসন দখলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অনেক ট্রেনেই দাঁড়িয়ে বা গাদাগাদি করে যাত্রা করতে দেখা গেছে। এমনকি কিছু যাত্রী ছাদেও উঠে বসেছেন। তবে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোতে তুলনামূলক কম ভিড় ছিল।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ছাড়া প্রায় সব ট্রেনই নির্ধারিত সময় মেনে কমলাপুর স্টেশন ছেড়েছে। শিডিউল বিপর্যয় না থাকায় যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন—এই আশায় অনেকেই আনন্দ প্রকাশ করেন।
যাত্রীদের মতে, ঈদকে সামনে রেখে ভিড় ও চাপ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সড়ক, নদী ও রেল—তিন পথেই যদি শৃঙ্খলা বজায় থাকে, তাহলে ভোগান্তি অনেকটাই কমে যায়। এবারের যাত্রার প্রথম দিনে সেই ইতিবাচক চিত্রই দেখা গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, আগাম প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং সময়মতো যানবাহন পরিচালনার কারণে এবার ঈদযাত্রার শুরুটা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তবে যাত্রীচাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখা জরুরি।
সব মিলিয়ে রাজধানী থেকে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে ভিড়, ব্যস্ততা ও উৎসবের আমেজের মধ্য দিয়ে। যানজটমুক্ত সড়কপথ, নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল—এসব কারণে যাত্রীরা যেমন স্বস্তি পাচ্ছেন, তেমনি পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার প্রত্যাশায় মুখর হয়ে উঠছে দেশের বিভিন্ন পথ ও প্রান্তর।