প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সরকারের উপদেষ্টাদের দফতর পুনর্বণ্টনের ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তিনি এখন থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের দায়িত্ব বণ্টনের এই পরিবর্তনকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের নীতিমালা, গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রবাহ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইভাবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে। ফলে এই দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একসঙ্গে পাওয়া প্রশাসনিকভাবে একটি বড় আস্থা ও দায়িত্বের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দায়িত্ব পালনে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এই দুটি মন্ত্রণালয়ের কাজ পরিচালনা করা তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ তৈরি করবে। দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তথ্যপ্রবাহ এবং সংস্কৃতির ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে সমন্বয় ও দক্ষতা বাড়াতে চায়। বিশেষ করে তথ্য ও সম্প্রচার খাতে ডিজিটালাইজেশন, গণমাধ্যমের আধুনিকায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সংস্কৃতি খাতে ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচিতি জোরদার করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান এর আগে স্বাস্থ্য ও নীতি-গবেষণা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। তাকে পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় এই পদে দায়িত্ব পালনের সময় অল্প দিনের মধ্যেই তাকে নতুন করে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে। একই সঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের কল্যাণ, সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তির মাধ্যমে সরকারের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতকে একই নেতৃত্বের অধীনে আনার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়তে পারে। তবে এই দায়িত্ব সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আরও মনে করেন, সরকারের শুরুতেই উপদেষ্টাদের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস প্রশাসনিক সংস্কারের একটি অংশ হতে পারে। এতে করে সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে। তথ্য ও সংস্কৃতি খাতের উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও জনসম্পৃক্ততার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় এই পদক্ষেপের ফলাফল ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমানের ওপর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ সরকারে তার প্রতি আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নতুন দায়িত্বে তার পরিকল্পনা ও কার্যক্রম কতটা বাস্তবায়িত হয়, তা সময়ই বলে দেবে।