ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভারত ও ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক এক ঘটনা। আরব সাগরে জব্দ হওয়া তিনটি ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর আবেদনও জানানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত এই দাবি তোলেন। ওই বৈঠকে জব্দ হওয়া তিনটি ট্যাংকার—স্টেলার রুবি, আল জাফজিয়া এবং অ্যাসফেল্ট স্টার—ফেরত দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। জানা গেছে, এসব জাহাজ গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় জলসীমায় বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগে ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড জব্দ করে। বর্তমানে জাহাজগুলো ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাই বন্দরে রয়েছে।

জব্দ জাহাজগুলোর মধ্যে স্টেলার রুবির মালিকানা ইরানের, আর আল জাফজিয়া ও অ্যাসফেল্ট স্টার যথাক্রমে মালি ও নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিতে ইরানি দূতাবাস এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ ব্যবহার করে। ফলে এই অঞ্চলে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে অন্তত এক ডজনের বেশি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ভারতীয় ট্যাংকার জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজগুলো যেন হামলার শিকার না হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মণ্যম জয়শঙ্করের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি কোনো গোপন সমঝোতা নয়; বরং ইরান ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারত তার জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পায়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব দেশটির অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করেছে। জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম চাওয়ার বিষয়টি সেই চাপেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান খোঁজা হলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনতে পারে।

সব মিলিয়ে তিনটি ট্যাংকার ফেরত চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-ইরান সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল সমীকরণের মধ্যে এই ইস্যু কীভাবে সমাধান হয়, তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত