প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রতি বছরই দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা। দীর্ঘ যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং নানা ভোগান্তির গল্প যেন ঈদযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল অতীতে। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন বলেই দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তার মতে, সরকারের সুপরিকল্পিত প্রস্তুতির কারণে এবারের ঈদযাত্রা হয়েছে স্বস্তিদায়ক, নিরাপদ এবং অনেকাংশেই ঝামেলামুক্ত।
মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা-এ রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত ‘গোমা সেতু’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, “এবারের ঈদযাত্রায় মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত। সড়কে কোনো যানজট নেই এবং যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ এবং আগাম পরিকল্পনার ফলেই এই সফলতা সম্ভব হয়েছে।
এবারের ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে রাজধানী ছেড়ে যাওয়া। মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে সড়ক, নৌ ও রেলপথে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর যাত্রা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত যানবাহন চালু, সড়ক সংস্কার এবং যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়েছে।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপরও জোর দেন। তিনি জানান, ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। তার মতে, উন্নত অবকাঠামো ছাড়া একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু যাতায়াত সহজ করে না, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নৌপথের বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ঢাকার সদরঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান। নাব্যতা সংকট মোকাবিলায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১২০০ কিলোমিটার নদীতে খনন কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে আরও সাড়ে ৪ হাজার কিলোমিটার নদী খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হলেও এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। তবে এই ধারা বজায় রাখতে হলে নিয়মিত তদারকি এবং সেবার মান ধরে রাখা জরুরি।
যাত্রীদের অনেকেই জানিয়েছেন, এবারের যাত্রা আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের যানজটের সম্মুখীন হতে হয়নি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও তুলনামূলকভাবে কম। ফলে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এই স্বস্তিদায়ক যাত্রা।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, এক বছরের সাফল্য দিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। ভবিষ্যতেও একই ধরনের সাফল্য ধরে রাখতে হলে সড়ক ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের মান এবং আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, এবারের ঈদযাত্রা নিয়ে সরকারের এই ইতিবাচক মূল্যায়ন দেশের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের একটি দিক তুলে ধরে। তবে এই অর্জনকে স্থায়ী করতে হলে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঈদ মানেই ঘরে ফেরা, আর সেই ফেরা যদি হয় নির্বিঘ্ন, তাহলে উৎসবের আনন্দ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবারের ঈদযাত্রা সেই আনন্দকে আরও উজ্জ্বল করেছে বলেই মনে করছেন যাত্রীরা।