ভালোবেসে অবশেষে: ঈদে হানিফ সংকেতের নতুন নাটক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
হানিফ সংকেতের নতুন নাটক

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলা টেলিভিশন নাটকের জগতে বরেণ্য নির্মাতা হানিফ সংকেত একটি সুপরিচিত নাম। দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং মানবিক বার্তায় সমৃদ্ধ নাটক নির্মাণের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে যেমন তিনি মানুষের জীবনের নানা বাস্তবতা তুলে ধরেছেন, তেমনি প্রতি ঈদেই নির্মাণ করেন বিশেষ নাটক, যা দর্শকদের জন্য হয়ে ওঠে অন্যতম আকর্ষণ। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় ঈদ উপলক্ষে তিনি নির্মাণ করেছেন নতুন নাটক ‘ভালোবেসে অবশেষে’, যা ইতোমধ্যে নাট্যপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

হানিফ সংকেতের নাটক মানেই একটি ভিন্নধর্মী গল্প, যেখানে বিনোদনের পাশাপাশি থাকে গভীর সামাজিক বার্তা। তাঁর নির্মিত ঈদের নাটকগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক দর্শকদের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ‘ভালোবেসে অবশেষে’ নাটকে তুলে ধরা হয়েছে শৈশবের বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, দূরত্ব এবং সময়ের পরিবর্তনে সম্পর্কের নতুন রূপের গল্প। নাটকটির মূল চরিত্র রানা ও নীলা, যারা একই গ্রামে বেড়ে ওঠা দুই শৈশবসাথী। তাদের মধ্যে সারাক্ষণই চলত মিষ্টি ঝগড়া, খুনসুটি আর বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের বাস্তবতা বদলে যায়। উচ্চশিক্ষার জন্য নীলা চলে যায় বিদেশে, আর রানা থেকে যায় নিজ গ্রামেই।

দীর্ঘদিন পর নীলা দেশে ফিরে আসে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে গ্রামে বেড়াতে গেলে হঠাৎ করেই দেখা হয়ে যায় রানার সঙ্গে। বহু বছর পর এই পুনর্মিলন তাদের দুজনের জীবনেই নতুন আবেগের জন্ম দেয়। শৈশবের স্মৃতি, পুরোনো সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বর্তমান জীবনের বাস্তবতা মিলিয়ে শুরু হয় একের পর এক ঘটনাপ্রবাহ। কখনো হাসি, কখনো আবেগ, আবার কখনো সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে এগিয়ে চলে নাটকের কাহিনী। গল্পের ভেতর দিয়ে দর্শকরা দেখতে পাবেন গ্রামীণ জীবন, পারিবারিক সম্পর্কের গভীরতা এবং ভালোবাসার চিরন্তন আবেদন।

নাটকটিতে রানার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ, যিনি ইতোমধ্যেই বহু নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অন্যদিকে নীলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। তাদের দুজনের অভিনয় রসায়ন নাটকটির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া নাটকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, মুনমুন আহমেদ, আরফান আহমেদ ও সুভাশিষ ভৌমিকের মতো অভিজ্ঞ শিল্পীরা। তাদের অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নাটকের গল্পকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।

নাটকের অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সূচনা শিকদার, নজরুল ইসলাম, জাহিদ চৌধুরী, হেদায়েত নান্নু, নূর এ আলম নয়নসহ আরও অনেক শিল্পী। এদের সম্মিলিত অভিনয় নাটকটিকে একটি পরিপূর্ণ পারিবারিক নাটকে পরিণত করেছে। নাটকের সূচনা সঙ্গীত লিখেছেন খ্যাতিমান গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। সুর দিয়েছেন নির্মাতা হানিফ সংকেত নিজেই এবং সঙ্গীতায়োজন করেছেন মেহেদী। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন রাজিব, যা নাটকের আবহকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে ফাগুন অডিও ভিশনের নিজস্ব শুটিং স্পটে। নির্মাণের সময় আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবেশের বাস্তবতা তুলে ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্মাতা মনে করেন, নাটকটি দর্শকদের শুধু বিনোদনই দেবে না, বরং তাদের মনে পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সম্পর্কের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে।

বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের জগতে একটি বিশেষ দিক হলো ঈদের নাটক। এই সময় বিভিন্ন চ্যানেলে একাধিক নাটক প্রচারিত হয় এবং দর্শকেরা তাদের পছন্দের নাটক বেছে নেন। তবে হানিফ সংকেতের ঈদের নাটক সবসময়ই আলাদা গুরুত্ব পায়। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রতি বছর দুই ঈদে দুটি বিশেষ নাটক নির্মাণ করে আসছেন এবং সেগুলো প্রচারিত হয় শুধুমাত্র এটিএন বাংলায়। এই ধারাবাহিকতা এখন একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

এটিএন বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হানিফ সংকেত শুধুমাত্র তাদের চ্যানেলের জন্য নাটক নির্মাণ করেন বলেই ঈদের দিনে এই নাটকটি একান্তভাবে তাদের চ্যানেলেই প্রচারিত হয়। ঈদের ব্যস্ততার মধ্যেও দর্শকরা পরিবার নিয়ে বসে এই নাটক উপভোগ করেন, কারণ তাঁর নাটকগুলো সবসময়ই পারিবারিক উপযোগী এবং শিক্ষণীয় বার্তায় সমৃদ্ধ। চ্যানেলটির আশা, এবারের ঈদেও রাত ৮টা ৫০ মিনিটে প্রচারিত ‘ভালোবেসে অবশেষে’ নাটকটি দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

সমাজের বাস্তবতা, মানুষের আবেগ এবং সম্পর্কের সূক্ষ্ম দিকগুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে হানিফ সংকেতের দক্ষতা দীর্ঘদিন ধরে প্রশংসিত হয়ে আসছে। তাঁর নাটকে যেমন বিনোদন থাকে, তেমনি থাকে একটি মানবিক বার্তা, যা দর্শকদের ভাবতে শেখায়। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়ে তৈরি এই নাটকটি ঈদের আনন্দকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘ভালোবেসে অবশেষে’ শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং এটি সময়ের পরিবর্তনে সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা খোঁজার গল্প। শৈশবের স্মৃতি, জীবনের বাস্তবতা এবং ভালোবাসার চিরন্তন শক্তি—এই তিনের মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে নাটকটির কাহিনী। ঈদের বিশেষ আয়োজনে এই নাটকটি দর্শকদের জন্য হয়ে উঠতে পারে আনন্দ, আবেগ এবং ভাবনার এক অনন্য উপলক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত