প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরেশোরে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, এবার ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা-এ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সেখানে উপস্থিত থেকে দেশি-বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের আয়োজনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত গণভবন এখন আর সেই ভূমিকায় নেই। সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের পর ভবনটি রূপান্তরিত হয়েছে একটি স্মৃতি জাদুঘরে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে ধারণ করছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি আবাসনের জন্য নতুন বিকল্প খুঁজতে হয়েছে।
এই বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই আপাতত সরকার প্রধানের বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজধানীর ৩০ হেয়ার রোডে অবস্থিত এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অতিথিদের আতিথেয়তার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রায় ৮ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই কমপ্লেক্সের ভেতরের অংশ ৫.২ একর এবং বাইরের অংশ ২.৮ একর। অফিসসহ ভবনের মোট আয়তন প্রায় ৩৫ হাজার বর্গফুট, যা প্রশাসনিক ও বাসযোগ্য উভয় দিক থেকেই উপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গুলশান থেকে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করছেন, যা দীর্ঘ পথ ও যানজটের কারণে সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে। যমুনা থেকে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দূরত্ব তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় এটি আরও কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ঈদের পরপরই প্রধানমন্ত্রী সেখানে স্থায়ীভাবে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে যমুনায় চলছে প্রস্তুতি। গণপূর্ত অধিদফতর জানিয়েছে, এখানে বড় ধরনের কোনো সংস্কার কাজ হচ্ছে না, বরং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ছোটখাটো উন্নয়ন কাজ চলছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং করা, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভবনের কিছু পুরনো অংশ মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। তবে কোনো ব্যাপক পরিবর্তন বা বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়নি। মূলত ভবনটিকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় রুটিন কাজগুলোই গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ভবনটি পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে।
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। এই অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং বিদেশি প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়।
এরই মধ্যে যমুনায় প্রধানমন্ত্রী দুই দফায় ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, যেখানে দেশি-বিদেশি কয়েকশ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এসব আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের মূল অনুষ্ঠানও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যমুনাকে কেন্দ্র করে এই নতুন অধ্যায় রাষ্ট্র পরিচালনার একটি পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক কাঠামো নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও অফিস ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন কেবল অবকাঠামোগত নয়, বরং একটি প্রতীকী দিকও বহন করে।
এছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই আয়োজন নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানতে আগ্রহী, নতুন এই পরিবেশে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান কতটা ভিন্নভাবে আয়োজন করা হবে এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য নতুন কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে কিনা।
সব মিলিয়ে, যমুনায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি একটি নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি যেমন প্রশাসনিক প্রয়োজনের প্রতিফলন, তেমনি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতাও তুলে ধরছে। এখন নজর সবার, আসন্ন ঈদে এই আয়োজন কতটা সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।