ঠাকুরগাঁওয়ে ৬০০ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার
৬০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তরের জনপদে আবারও কৃষকের ঘামে গড়া স্বপ্ন ভাঙার খবর সামনে এলো। ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় রাতের আঁধারে প্রায় ৬০০টিরও বেশি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, পাশাপাশি কৃষি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার কানারী ডাইরেকশন মোড় এলাকায় এই নাশকতার ঘটনা ঘটে। ভোরে জমিতে গিয়ে কৃষকরা দেখতে পান, যত্নে লালিত কলাগাছগুলো মাটিতে লুটিয়ে রয়েছে। রাতের অন্ধকারে কে বা কারা পরিকল্পিতভাবে গাছগুলো কেটে দিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন কানারী গ্রামের রবিউল আউয়াল। তার প্রায় ১৫ কাঠা জমিতে থাকা সাড়ে ৬০০ কলাগাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই গাছগুলোই ছিল তার প্রধান আয়ের উৎস। একই গ্রামের আরেক কৃষক নিশাদু রায়ের ১২ কাঠা জমিতে থাকা প্রায় ১৫০টি কলাগাছও একইভাবে নষ্ট করা হয়েছে। দুই কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর কৃষকদের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেকেই বলছেন, বছরের পর বছর পরিশ্রম করে গড়ে তোলা ফসল এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ এটিকে পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হামলা বলে সন্দেহ করছেন, আবার অনেকে বলছেন জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রবিউল আউয়াল জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই জমিতে কলা চাষ করে আসছেন এবং এবার ভালো ফলনের আশা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এমন ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একইভাবে নিশাদু রায় বলেন, এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা তার পক্ষে সহজ হবে না। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এমন ঘটনা নতুন নয়। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ফসল নষ্ট করার ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরা পড়ে না। ফলে কৃষকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। তারা বলছেন, কৃষিজমিতে নজরদারি বাড়ানো এবং রাতে টহল জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পীরগঞ্জ থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিক্ষেত্রে এমন নাশকতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কৃষকরা যদি বারবার এমন ঝুঁকির মুখে পড়েন, তাহলে তারা চাষাবাদে আগ্রহ হারাতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য উৎপাদনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনা আরও বেদনাদায়ক। একটি গাছ বড় করতে সময় লাগে মাসের পর মাস, কখনো বছরও। সেই গাছ যখন ফলনের আগমুহূর্তে কেটে ফেলা হয়, তখন তা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, মানসিকভাবেও ভেঙে দেয় কৃষককে। পরিবারের আশা, সন্তানের পড়াশোনা, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা—সবকিছুই এই ফসলের ওপর নির্ভর করে থাকে।

স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সক্রিয় ভূমিকা এখন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, দ্রুত তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রামীণ পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং বিরোধ নিরসনে স্থানীয় নেতৃত্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সবশেষে বলা যায়, পীরগঞ্জের এই ঘটনা কেবল একটি এলাকার নয়, বরং দেশের সামগ্রিক কৃষি নিরাপত্তার একটি প্রতিচ্ছবি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে, যা কৃষকদের আস্থা এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত