প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দেশজুড়ে জনসম্পৃক্ত ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে অসহায় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে ইফতার সামগ্রী, খাদ্য সহায়তা এবং ঈদ উপহার বিতরণের মাধ্যমে একধরনের সামাজিক উপস্থিতি জোরদার করছে দলটি।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, রমজান মাসের শুরু থেকেই এসব কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় সংসদ সদস্য, পরাজিত প্রার্থী এবং স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা নিজ নিজ উদ্যোগে সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। দরিদ্র পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ঈদকে সামনে রেখে নতুন পোশাক ও উপহার সামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগও চোখে পড়ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন নেতারা। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আলাদা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে নানা ধরনের উপহার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা-৬ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান বলেন, নির্বাচনে জয়ী না হলেও এলাকার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে তারা এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাষায়, ঈদকে সামনে রেখে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে অসহায় মানুষের মধ্যে উপহার বিতরণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার রমজানজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে জয়ী না হলেও জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সিটি করপোরেশন, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন। যেসব সমস্যা দলীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজনও করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ‘ইচ্ছা পূরণ’ নামে একটি কর্মসূচির মাধ্যমে অসহায় শিশুদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দেওয়ার উদ্যোগ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন এলাকায় ইফতার, খাদ্য ও ঈদের পোশাক বিতরণ করছেন, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
দলটির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও তাদের নির্বাচনি এলাকায় সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি দলীয় উদ্যোগে সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি তার নির্বাচনি এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। একইভাবে অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকায় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ফার্মগেট এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৬, ঢাকা-৪ এবং ঢাকা-৫ আসনের প্রতিনিধিরাও একই ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করছেন।
চুয়াডাঙ্গা-1 আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল জানান, সরকারিভাবে পাওয়া বরাদ্দ যথাযথ নিয়ম মেনে দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি দলীয় উদ্যোগেও তিনি বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব কর্মসূচি একদিকে যেমন মানবিক সহায়তা প্রদান করছে, অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের উপস্থিতিও জোরদার করছে। বিশেষ করে নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের কার্যক্রম ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ঈদের সময় অধিকাংশ নেতাকর্মী নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করবেন। তারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন এবং তাদের সমস্যার খোঁজখবর নেবেন। দলের ভেতরে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য একটি অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে জামায়াতে ইসলামী, তা রাজনৈতিক ও সামাজিক—উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলছে। এটি কেবল সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নয়, বরং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।