প্রকাশ: ১৮ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব প্রতিবেদক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ ১৮ জুলাই শুক্রবার সারাদেশের মোবাইল ফোন গ্রাহকদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে এক জিবি ইন্টারনেট একেবারে বিনামূল্যে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তত্ত্বাবধানে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি মোবাইল ব্যবহারকারী সরাসরি উপকৃত হবেন।
ফ্রি ইন্টারনেট ডে উদযাপন উপলক্ষে এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই সুবিধা জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে, গণতান্ত্রিক সচেতনতা এবং ঐতিহাসিক দিবসটির তাৎপর্য ছড়িয়ে দিতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮ জুলাই ‘ফ্রি ইন্টারনেট ডে’ ঘোষণা করে দেশের সব মোবাইল ফোন অপারেটরদের মাধ্যমে প্রত্যেক মোবাইল গ্রাহককে ৫ দিনের জন্য এক জিবি করে ডেটা দেওয়া হবে। এই ফ্রি ডেটার মেয়াদ থাকবে পাঁচ দিন এবং এটি শুধুমাত্র এই বিশেষ দিন উপলক্ষে এককালীন উপহার হিসেবে গণ্য হবে।
এই বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ জানিয়েছে, ৯ জুলাইয়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব মোবাইল অপারেটরদের এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। গ্রাহকদের কোনো বাড়তি চার্জ বা কর ছাড়াই তারা তাদের নির্ধারিত নম্বরে ডায়াল করে ডেটা পেয়ে যাবেন।
কীভাবে পাওয়া যাবে এই ফ্রি ডেটা?
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ১৮ জুলাই সব মোবাইল গ্রাহক পাচ্ছেন ৫ দিন মেয়াদি এক জিবি ফ্রি ডাটা। ফ্রি ডাটা পেতে ডায়াল করুন জিপি *121*1807#, রবি *4*1807#, বাংলালিংক *121*1807 এবং টেলিটক *111*1807# নম্বরে।
সরকারি সূত্র জানায়, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি স্মারক কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি বার্তাও বহন করে—তথ্যপ্রযুক্তি হোক গণতন্ত্রের বাহক এবং জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের নতুন সংযোগ সেতু।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণ করে এই ডিজিটাল সংযোগের প্রতীকী পদক্ষেপটি দেশের তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী ও সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি প্রযুক্তি ব্যবহারে একটি ইতিবাচক মানসিকতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
এই প্রথমবারের মতো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি দিনকে ‘ফ্রি ইন্টারনেট ডে’ হিসেবে উদযাপন করছে, যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল অধিকার, তথ্যের স্বাধীনতা এবং ই-গভর্ন্যান্স প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
আজকের এই উদ্যোগে প্রযুক্তি এবং ইতিহাস একসঙ্গে মিলিত হয়েছে এক নতুন বার্তা নিয়ে—তথ্য সবার জন্য, প্রযুক্তি হোক সকলের হাতের মুঠোয়।